সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Poet-Bande-Ali-Miah.jpg

ছোটদের প্রিয় কবি কবি বন্দে আলী মিয়া

সৌভাগ্য ক্রমে আমি কবি বন্দে আলী মিয়ার গর্বিত প্রতিবেশী। পাবনা সরকারী এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পাশ ঘেঁষা ডিগ্রী মোড় থেকে পশ্চিমে চলে যাওয়া রাস্তাটি পাবনা-ঈশ্বরদী সড়কে গিয়ে মিশে যাওয়ার এক-দেড়শ গজ পূর্বেই হাতের বামে কবিকুঞ্জ'র নিজস্ব জমিনেই গড়ে ওঠা কবি বন্দে আলী মিয়া শিশু শিক্ষা নিলয়'র পাশেই তিনি চির নিদ্রায় শায়িত আছেন।

পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামের এই কবি কুঞ্জেই তিনি ১৯০৬ সালের ১৭ জানুয়ারি, উমেদ আলী মিয়া ও নেকজান নেছার ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেন। তখন অবশ্য বাড়ীর নাম কবিকুঞ্জ ছিল না।

এই রাধানগরেই কবি তাঁর শৈশব-কৈশর কাটিয়েছিলেন। এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজেরই দক্ষিন সীমানায় অবস্থিত আর এম একাডেমী (রাধানগর মজুমদার একাডেমী) থেকে ১৯২৩ সালে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় (এই বিদ্যালয় থেকেই আমিও এস এস সি পরীক্ষায় পাশ করেছি) এবং ১৯২৭ সালে কলকাতার বৌ-বাজারস্থিত ইন্ডিয়ান আর্ট একাডেমী থেকে চিত্রবিদ্যায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। সেই সময় ইন্ডিয়ান আর্ট একাডেমীতে তিনিই ছিলেন একমাত্র মুসলিম ছাত্র। চিত্রবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে তিনি যখন ছবি আঁকার কাজে মনোনিবেশ করলেন, সেই সময় অধ্যক্ষ ইব্রাহীম খাঁর সাথে তাঁর পরিচয় হয়। খাঁ সাহেবের কথামতো করটিয়া সাদত কলেজে তিনি আই এ শ্রেণিতে ভর্তি হন। কিন্তু কলকাতার জীবন ছেড়ে মফস্বল শহরে কবির মন বসলো না। লেখাপড়ার পাঠ শেষ না করেই তিনি কলকাতায় ফিরে গেলেন।

তিনি স্কুলের ছাত্র থাকা কালীন সময় থেকেই প্রচুর পড়াশোনা করতেন এবং কলকাতা থেকে প্রকাশিত শিশুদের পত্রিকা নিয়মিত পড়তেন। এ ব্যাপারে তাঁর এক মামা তাঁকে উৎসাহিত করতেন। সেই  সময় কবি কিভাবে কবিতা লিখতে শুরু করলেন এ সম্পর্কে তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন তার জীবনের  দিনগুলি গ্রন্থটিতে। গ্রন্থটিতে তিনি  বলেছেন, বাংলা ১৩২৮ সালের কথা। আমি সে সময়ে বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র। মাঝে মাঝে লুকিয়ে কবিতা লিখবার চেষ্টা করি।  অতিশয়  সঙ্কোচ  আর  লজ্জা ।  সহপাঠী  বন্ধুদের  দেখলে  তারা  মনে করবে, হয়তো  কোনো  বই  থেকে  কারো  লেখা  নকল  করে  বাহবা  নেবার  জন্যে  তাদের  কাছে  আমার  নিজের  বলে বলছি ।  তবু ও  লিখি  এবং  খাতাটা  সযত্নে  লুকিয়ে  রাখি ।”  এভাবে  চেষ্টা  করে  যাবার  পর  সত্যি  কবির  কবিতা একদিন  ছাপা  হলো ।  তাঁর  জীবনের  প্রথম  ছাপা  কবিতাটির  নাম  'ছিন্নপত্র' ।  রাজশাহী  বিভাগের  নাটোর  জেলা থেকে  প্রকাশিত  “বেঙ্গল  প্রেসিডেন্সি  গেজেট”  নামক  সাপ্তাহিক  পত্রিকায়   তাঁর  এই  কবিতাটি  ছাপা  হয় ।  কবিতা প্রথম  ছাপা  হলে  সে  যে  কী  আনন্দ  তা  ভাষায়  প্রকাশ  করা  সত্যি  দুঃসাধ্য ।  এমনিভাবে  আনন্দের  মধ্য  দিয়ে  যার জীবন  শুরু  তিনি  জীবনের  শেষ  দিন  পর্যন্ত  আমাদের  জন্য  লিখে  গেছেন । 

 তিনি তাঁর জীবনের সর্ব অবস্থায়ই শিশুদের বড় ভালবাসতেন । শিশুরাও তাঁকে প্রিয় কবি বলেই মনে করত । আমরা ছোট বেলায় আমাদের স্কুলের লাইব্রেরী এবং পাবনা শহরের ‘অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরী’ থেকে তাঁর  লেখা  চোর  জামাই  (১৯২৭),  মেঘকুমারী (১৯৩২),  মৃগপরী (১৯৩৭),  বোকা জামাই (১৯৩৭),  কামাল আতার্তুক  (১৯৪০),  ডাইনী বউ (১৯৫৯),  রূপকথা (১৯৬০),  কুঁচবরণ কন্যা (১৯৬০),  ছোটদের নজরুল (১৯৬০),  শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা (১৯৬৩),  ‘বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,’  ‘গুপ্তধন,’  ‘ঝিনুক-পরী,’   ‘দুই বন্ধু,’  ‘যেমন কর্ম-তেমন ফল’   প্রভৃতি শিশুতোষ বইগুলো সংগ্রহ করে পড়তাম ।

তাঁর  বেশকিছু  উল্লেখযোগ্য  কবিতা  দীর্ঘদিন  শিশু-কিশোরদের  মনে  থাকবে ।  তার  রচিত  'আমাদের গ্রাম', ‘বন্দী',  'কলমিলতা'  প্রভৃতি  পদ্য,  কবিতা   আমাদের   সকলের   মন   জয়  করে  নেয় ।   তখন কার দিনে স্কুলে পড়া আমাদের বয়সের এমন কেউ নেই, যিনি বা যারা কবির এই কবিতাটি পরেন নি !

আমাদের গ্রাম 
আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর, 
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর ৷ 
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই, 
এক সাথে খেলি আর পাঠশালে যাই ৷ 
আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান, 
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইয়াছে প্রাণ ৷ 
মাঠ ভরা ধান তার জল ভরা দিঘি, 
চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি ৷ 
আম গাছ, জাম গাছ, বাঁশ ঝাড় যেন, 
মিলে মিশে আছে ওরা আত্মীয় হেন ৷ 
সকালে সোনার রবি পুব দিকে ওঠে, 
পাখি ডাকে, বায়ু বয়, নানা ফুল ফোটে ৷

যেমন সরল–সহজ ভাষা, তেমনি তার মোহনীয় ছন্দ ! প্রকৃতিকে নিয়ে লেখা এমন চমৎকার দেশাত্ববোধক ছড়া কার না ভাল লাগে ! তিনি শুধু শিশুদের জন্য শিশুতোষ ছড়াই লিখেন নাই,  বাংলা সাহিত্যের এমন কোন শাখা নেই, যেখানে তিনি স্বাচ্ছন্দে বিচরণ করেন নি । যেমন,-তিনি ছিলেন একাধারে  গীতিকার,  উপন্যাসিক,  গল্পকার,  নাট্যকার,  বিশিষ্ট  চিত্রশিল্পী,  সেই  সাথে  কবি  ছিলেন  জীবনীকার  ও  স্মৃতিকথার  কুশলী  লেখকও,  তবে  তাঁর  বহুল পরিচিতি  মূলতঃ  শিশুসাহিত্যিক হিসেবেই ।  আরও স্পষ্ট করে বললে ছোটদের ‘গল্পদাদু’ হিসেবে ।

যদিও প্রফেসর  ডক্টর  গোলাম  সাকলায়েন  প্রণিত  বাংলা  একাডেমি  প্রকাশিত (১৯৮৮)  কবি  বন্দে  আলী মিয়ার  জীবনীগ্রন্থে  উল্লেখ  আছে  উপন্যাস ১০ খানা, নাটক ৬ খানা, অনুবাদ ১ খানা, স্মৃতিকথা ১ খানা  ও সঙ্গীত  গ্রন্থ ৩  খানা । তবে তাঁর উপর রচিত প্রায় সমস্ত অনুসন্ধ্যানী প্রতিবেদনেই দেখা যায় যে, তিনি ১০৫টি শিশুতোষ  গ্রন্থ সহ  মোট  ১৩৬ খানা গ্রন্থ রচনা করে গেছেন । শিশুদের জন্য শিশুতোষ গ্রন্থ ছাড়াও  তাঁর  উল্লেখযোগ্য  বইগুলো  হচ্ছে-- ময়নামতির  চর (১৯৩২), অনুরাগ (১৯৩২), ‘অরণ্য,’  ‘গোধূলী,’  ‘ঝড়ের সংকেত,’  ‘নীড়ভ্রষ্ট,’  ‘জীবনের দিনগুলো’  ইত্যাদি ।  ইতিহাসের  বিষয়,  উপাদান   ও  ঘটনাকে কেন্দ্র  করেও  তিনি  রচনা  করেছেন  অনেকগুলো  গ্রন্থ ।  তার   মধ্যে  ‘কোহিনূর,’  ‘ছোটদের বিষাদ সিন্ধু,’  ‘ছোটদের  মীর  কাসিম,’  ‘তাজহমহল,’  ‘কারবালার  কাহিনী’  প্রভৃতি  গ্রন্থে  তিনি অনেক শিক্ষণীয়  বিষয়  তুলে  ধরেছেন ।  কবি  বন্দে  আলী  মিয়ার  শিশু সাহিত্যে  সবচেয়ে  বড়  অবদান  হলো,   ছোটদের  উপযোগী  জীবনীগ্রন্থ ।  মহৎ  লোকদের  জীবনী  যে  মানুসের  চরিত্র  ও  মনুষত্ব  অর্জনে  বড়  অবলম্বন,  তা  হয়তো বন্দে  আলী  মিয়া  বিশেষভাবে  অনুধাবন  করেছিলেন ।  তাই  তিনি  ইতিহাস  থেকে  বিখ্যাত  মনীষী, মহামানব, কবি-সাহিত্যিক,  বৈজ্ঞানিক,  সমাজসেবক,  রাজনীতিবিদদের  জীবনী  অবলম্বনে  প্রচুর শিশুতোষ  গ্রন্থ  লিখেছেন ।  জোর  দিয়েই  বলা  যায়  যে,  এই  সমস্ত  জীবনীগ্রন্থ  পাঠ  করে  শিশু-কিশোররা  তাদের  চরিত্র  গঠন  করতে  এবং  সেই  আদর্শে  পথ  চলতে  আগ্রহী  হবে ।  এ ছাড়াও কবির বেশ কিছু অপ্রকাশিত  গ্রন্থও  রয়েছে ।

তিনি ছিলেন প্রথিতযশা চিত্রকর । শিশুতোষ গ্রন্থের মজার মজার ছবিগুলো তিনি নিজের হাতেই এঁকেছেন । আবার ইসলামী সংস্কৃতিকেও তিনি বিশ্বস্ততার সাথে জীবনের সাথে মানিয়ে নিয়েছিলেন । তাইতো তিনি কোরান,  হাদিস  ও  গুলিস্তাঁর  গল্প  লিখেছেন,  লিখেছেন  'ইরান-তুরানের  গল্প',  'ঈশপের গল্প',  'দেশ বিদেশের গল্প',  'শাহনামার গল্প' ।  তাঁর  ইসলামী  গানগুলোও   তখনকার   মুসলমান   সমাজে   খুবই  আশার  বাণী  ছড়িয়েছিল । যেমন- ইব্রাহিম  খলিলুল্লাহ-খোদা  তালার  প্রিয়জন,  আবদুল  কাদের  জিলানী-বুজর্গ  পীর,  লা’শারিকালা  নামে  নাওখানি  বাইয়া,  জেয়ারতের  রওযা  ভূমে,  রোজা  নামাজ,  মরু  মদিনায়, এসো পথিক,  পিয়াল  পাতার,  এতো  জ্বালা  জানি  যদি,  চেয়েছিনু  মালাখানি,  ভালবেসে,  দখিনা  বাতাস  বধু, দল  বেঁধে  চলে  মেঘ,  শতেক  তারার  মাঝে,  আমার  ভূবনে  মধু  পূর্ণিমা  আলো,  পিয়াল  বনের  পাখি,  তোমার  পথের  ধারে,  তোমার  কামনার  রূপধরে  ইত্যাদি ।

কবি ছিলেন প্রত্যন্ত পল্লীর নিসর্গ প্রেমী । তাঁর চেতনায় ছিল চিরন্তন সত্যের তৃষা । তিনি সময়ের গন্ডীতে কখনো বাধা পড়তে চাননি । তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী ছিল সুদুর প্রসারী, আর ছিল দুঃখী মানুষের জন্য অত্যন্ত সহানুভূতিশীল একটি বিশাল হৃদয়, যা তাঁকে নিয়ে যেত নদীর কূল ভাঙ্গা অসহায় মানুষের পাশে । যাদের জীবনের উত্থান-পতনের সাথে জড়িয়ে ছিল নদীর জোয়ার-ভাটা আর ভাঙ্গা-গড়ার খেলা । তিনি খুব কাছে থেকে দেখেছেন গ্রাম বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, প্রেম-ভালবাসা ! দেখেছেন দীঘির জলে পদ্ম পাতার মেলা, দেখেছেন নদীর স্রোতে কচুরীপানার ভেলা । করেছেন কলমি লতার সাথে নিবিড় আলাপ, শুনেছেন দুর্ভিক্ষের হাহাকারে সন্তান হারা জননীর হৃদয় চূর্ণ বিলাপ ! গানের সুরে সুরে, কবিতার ছন্দে বৃক্ষ লতার সাথে করেছেন সন্ধি, সে সবই আবার তিনি মনের মাধুরী মিশিয়ে কাগজের পাতায় পাতায় করেছেন বন্দী । কবি বড় আবেগ প্রবন ছিলেন, তাইতো তিনি তাঁর কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন সারি গান আর পাল তোলা নায়ের চমকপ্রদ ঐতিহ্য বিলাসও । আজগুবি  সব  ‘দেউ-দানবে’র  কাহিনী  কিংবা  মানবসন্তানের  কুমির হয়ে  যাওয়ার  ঘটনাও  কবি বর্ণনা   করেন  অভিজ্ঞ  দর্শকের  মতো । আসলে তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ।

কাব্যজীবনের সূচনা লগ্নেই কবি বন্দে আলী মিয়ার ‘ময়নামতীর  চর’  সম্পর্কে  কবি  রবীন্দ্রনাথ  লিখেছিলেন,  ‘তোমার  ময়নামতীর  চর  কাব্যখানিতে  পদ্মাচরের  দৃশ্য  এবং  তার  জীবনযাত্রার  প্রত্যক্ষ  ছবি দেখা  গেল ।  তোমার  রচনা  সহজ  ও  স্পষ্ট,  কোথাও  ফাঁকি  নেই ।  সমস্ত  মনের  অনুরাগ  দিয়ে  তুমি দেখেছ  এবং  কলমের  অনায়াস  ভঙ্গিতে  লিখেছ ।  তোমার  সুপরিচিত  প্রাদেশিক  শব্দগুলো  যথাস্থানে  ব্যবহার  করতে  তুমি  কুণ্ঠিত  হওনি,  তাতে  করে  কবিতাগুলো  আরো  সরস  হয়ে  উঠেছে ।   পদ্মা তীরের পাড়া গাঁয়ের  এমন  নিকট স্পর্শ  বাংলা  ভাষায়  আর  কোনো  কবিতায়  পেয়েছি  বলে  আমার  মনে  পড়ছে না ।  বাংলা  সাহিত্যে  তুমি  আপন  বিশেষ  স্থানটি  অধিকার  করতে  পেরেছ  বলে  আমি  মনে  করি ।’  (২৬ জুলাই ১৯৩২) । প্রথম গ্রন্থেই এমন স্বীকৃতি কবিকে আরও অনুপ্রাণিত করে এবং যার পর নাই আত্মবিশ্বাসীও করে তোলে ।

কবি  বন্দে  আলী  মিয়া  ১৯২৫ সালে  ইসলাম  দর্শন  পত্রিকায়  সাংবাদিকতা  শুরু  করেন ।  ১৯২৭  সালে তাঁর  লেখা  ছড়া  ও  কবিতা  ভারতের  বেঙ্গল  প্রেসিডেন্সি  গেজেট  পত্রিকায়  প্রকাশিত  হয় ।  কলকাতা  ও ঢাকার  বিভিন্ন  পত্র-পত্রিকা  ও  সাহিত্য  সাময়িকীতে্ও  তাঁর  লেখা  প্রকাশ  হতো ।  পরবর্তীকালে ‘বিকাশ’ নামের  একটি  পত্রিকায়ও  তিনি সাংবাদিকতা  করেন এবং  এক  সময়ে  তিনি  ‘বিকাশ’  পত্রিকার  যুগ্ম সম্পাদক  হিসেবেও  দায়িত্ব  পালন  করেন ।   ১৯৩০  সালে  তিনি  কলকাতা  কর্পোরেশন  স্কুলে  শিক্ষক  হিসেবে যোগদান  করেন ।  ওই  স্কুলে  তিনি  ১৯৪৬  সাল  পর্যন্ত  শিক্ষকতা  করেছেন ।  কলকাতায়  থাকাকালে  তিনি কবি   রবীন্দ্রনাথ  ঠাকুর  ও  জাতীয়  কবি  কাজী  নজরুল  ইসলামের  সান্নিধ্য  লাভ  করেন ।  এ ছাড়াও শরৎচন্দ্র  চট্টোপাধ্যায়,  অবনীনন্দনাথ,  সজনিকান্ত  দাস,  প্রমথ  চৌধুরী,  নরেশ  দেব,  হুমায়ুন  কবির,  রোকেয়া  সাখাওয়াত  হোসেন,  এ  কে  ফজলুল  হক,  ওস্তাদ  জমির  উদ্দিন  খাঁ,  সৈয়দ  এমদাদ  আলী, শেকোয়া’র  অনুবাদক  আশরাফ  আলী  খান,  শাহাদৎ  হোসেন  প্রমুখ  বরেন্য  সাহিত্য ঘনিষ্ঠ  ব্যক্তিবর্গের  সাথে দেখা  সাক্ষাত  সূত্রে  তিনি  সাংবাদিকতা  ও  সাহিত্যের  প্রতি  ঝুঁকে  পড়েন ।  কখনও  কখনও  গান  রচনায়ও  তিনি  আকৃষ্ট  হতেন ।  উল্লেখিত  সাহিত্যিক  ব্যক্তিবর্গের  উৎসাহও  যেমন  পেয়েছেন,  তেমনি আবার  অনেকে  তাঁকে প্রত্যক্ষভাবে  সহযোগিতাও  করেছেন ।

তিরিশ--চল্লিশ  দশকের  কোনো  এক  সময়ে  কাজী  নজরুল  ইসলামের  সান্নিধ্যে  আসার  ফলে  তাঁর  মনে  নতুন  প্রেরণার সৃষ্টি  হয়  এবং  এর  ফলশ্রুতিতে  তিনি  কণ্ঠশিল্পীদের  বিভিন্ন  ধরনের  গান  রচনা  করতে  শুরু  করেন ।  কাজী  নজরুল ইসলামের  নির্দেশে  তিনি  গীতি  আলেখ্য  “কারবালা”  রচনা  করেন ।  তাঁর  গানগুলো   তৎকালের  রেকর্ড  কোম্পানি রেকর্ড  করে ।  দুইটি  রেকর্ড  চারখণ্ডে  সমাপ্ত  করা  হয় ।   টুইন  রেকর্ড  এফ.টি-  ৪৮৪১-৪২,  ১৯৩৭  সালে  প্রকাশ  লাভ  করে  এবং  অংশগ্রহণ  করে  ‘মুসলিম ফ্রেন্ডস্’  ।  ঠিক  এর  কিছু  আগে  প্রখ্যাত  শিল্পী  আব্বাস  উদ্দিন আহম্মদ  কবি  বন্দে  আলী   মিয়া   দ্বারা  রচিত  ‘ওয়াজ মাহফিল’  টুইন  রেকর্ডে  বাণীবদ্ধ  করেন ।

অপরটি  টুইন  রেকর্ড  এফ.টি- ৪৭৭৯, খুব  জনপ্রিয়তা  লাভ  করে ।  জনপ্রিয়তা  অর্জনের  ফলে  কবি  শুধু  টুইন  রেকর্ড  কোম্পানির  সঙ্গে  যুক্ত  না  থেকে  তিনি  মেগাফোন,  কলোম্বিয়া,  হিন্দুস্থান,  তাজ,  সেনোলা, রিগ্যাল  রেকর্ড  কোম্পানির  সঙ্গেও  চুক্তিবদ্ধ  হয়ে  কাজ  করেন ।  কবি  নাটিকা  শুধু  রচনাই  করতেন  না; তাতে  তিনি  অভিনয়  এবং  নিজে  পরিচালনাও  করতেন ।  শিল্পী  ও  সুরকার  আব্দুল  হালিম  চৌধুরী  কবি বন্দে আলী  মিয়ার  বেশ  কয়েকটি  গানে  হিন্দুস্থান  রেকর্ড  কোম্পানিতে  কণ্ঠ  দেন ।  তাঁর  গানগুলো হ’লো- জিন্দেগী  তোর  আখের  হইল  (এইচ-৮৯৯)  ও  ইয়া  এলাহী  কবুল  কর  (এইচ-৮৯৯) ।

এই দশকেই কবি বন্দে  আলী  মিয়ার  কলকাতা  রংমহল  থিয়েটার  হলে  ‘বৌদিদির  রেস্টুরেন্ট’  মঞ্চস্থ হ‘লে  তিনি বিপুল  জনপ্রিয়তা  অর্জন  করেন ।  প্রায়  চার মাসাধিককাল  ধরে  কবির  ‘কমিক’  নাটকটি  মঞ্চস্থ  হয় । কবি  বন্দে  আলী  মিয়া  তাঁর  রচিত  ‘কমিক’  নাটকে  অভিনয়  থেকে  যে  রয়্যালটি  পেয়েছিলেন  তা  দিয়ে তিনি  রাজশাহী  বেতার কেন্দ্রের  কাছে  একটি  বাড়ি  কিনেছিলেন ।

তাঁ঳র  রচিত  নাটিকাগুলো  হলো-  (রেকর্ড  কোডসহ)- পরলোক  প্রথম  ও  দ্বিতীয়  খণ্ড  (জেএনজে-৫৩৭০), শাদ্দাদের  স্বর্গ  প্রথম ও  দ্বিতীয়খণ্ড  (এফটি-১২১৫৩),  যাকাত  প্রথম ও  দ্বিতীয়  খন্ড (১২৯৩৪),  তৃতীয়  ও  চতুর্থ  খণ্ড  (এফটি-১২৯৩৫),  ইসলামের  জয়  প্রথম  ও  দ্বিতীয়  খন্ড (এইচ-১১৬৩৭),   মিলাদ  মাহফিল  প্রথম থেকে চতুর্থ খন্ড  (কিউএস-৩০৩-৪),  নামাজের  মহিমা  প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড  (জেএনজি-৫৫৩৫),  ওয়াজ মাহফিল  প্রথম থেকে চতুর্থ খণ্ড  (৪৭৭৯-৮০),  কারবালা  প্রথম থেকে চতুর্থ খণ্ড   (এফটি-৪৮৪১-৪২),  মদিনা দর্শন  (প্রথম থেকে চতুর্থ খণ্ড  (এফটি-১৩২২৪-২৫),  বিয়ে বাড়ী  (প্রথম থেকে চতুর্থ খণ্ড  (জেএনজি-৫০৯৯),  রাবেয়া  প্রথম থেকে ষষ্ঠ খণ্ড  (কিউএস-২৫১-২), হাজী  মহসিন  প্রথম থেকে ষষ্ঠ খণ্ড    (এফটি-১২৬৩৫-৩৬-৩৭),  আলাদীন  প্রথম থেকে ষষ্ঠ খণ্ড   (জেএনজি- ৫৪৩৫-৩৬-৩৭),  সত্যপীর  প্রথম  থেকে  অষ্টম  খণ্ড  (আরএল-১১৫৮-৫৯-৬০-৬১),  পতিভক্তি  প্রথম ও দ্বিতীয়  খণ্ড (এইচআরটি-১১৬),  সোহরাব  রোস্তম  প্রথম  থেকে  চতুর্থ  খণ্ড  (জেএজিপ্র-৫২৭১-৭২),  বৌদিদি  রেস্টুরেন্ট  কমিক  নক্সা  (১)  ও  নক্সা  (২)  (কিউএস-৬১১),   বাঞ্ছারাম ঢ্যাং-কমিক  নক্সা- ১  ও  নক্সা-২  (কিউএস-৬২৩), পয়দায়েছে  দুনিয়া  প্রথম  ও  দ্বিতীয়  খণ্ড  (এফটি-১৩৬৩১),  বেহেশ্ত-দোজখ (এফটি-১৩১৭০)  এবং  বাংলার কৃষি  প্রথম  ও  দ্বিতীয়  খণ্ড  (জেএনজি-৫৫১৪)।

১৯৫০  এর  পর  তিনি  ঢাকায়  আসে ।  বিভিন্ন  পত্র-পত্রিকায়  মুদ্রণের  পাশাপাশি  তিনি  বই  লিখে,  বিভিন্ন  পত্র-পত্রিকায়  কবিতা,  ছড়া-গল্প  লিখে,  ছবি  এঁকে  সংসার  চালাতে  লাগলেন ।  ১৯৬১   সালে   ইস্ট-বেঙ্গল  পাবলিসার্স   তাঁর   পরোক্ষ   সম্পাদনায়   প্রকাশ   করে   শিশুতোষ   পত্রিকা   ‘ময়ুরপঙ্খি’ ।  ১৯৬৪’র   পর   প্রথমে   ঢাকা  বেতারে   ও   পরে  ১৯৬৫  সালে  রেডিওতে  পাণ্ডুলিপিকার  হিসেবে  চাকরি  নিয়ে  রাজশাহীতে  আসেন ।   কবি  বেতারে  কাজ  করার   সময়  ছোটদের  আসর  ‘সবুজ মেলা’  পরিচালনা   করতেন  এবং  তিনি   ‘গল্প দাদু’   নামে   বেশ  জনপ্রিয়   হয়ে   ওঠেন ।  তিনি   বেতারে   ‘ছেলে  ঘুমালো’   অনুষ্ঠানের   জন্য   প্রায়ই   নতুন   নতুন   গল্প   রচনা   করতেন ।

কবি   জীবনে   নানা   সমস্যা, জটিলতার   সন্মুখীন   হয়েছেন ।   সুখ   যেমন   তাঁর   সাথী   ছিল   তেমনি   দুঃখও  ছিল ওতপ্রোতভাবে  জড়িত ।  সুখে   ছিল  শান্তি   আর  দুঃখে   ছিল  নির্মমতা  ও  অস্থিরতা ।  জীবন যুদ্ধে  তিনি  বার  বার পরাভূত  হয়েও   জয়ী  হয়েছেন ।   জানা  যায়  যে  আর্থিক  টানা  পড়েনে  কবি  মাত্র  ৫০  টাকার   বিনিময়ে   প্রকাশকের কাছে  বই  বিক্রি  করতে  বাধ্য  হয়েছেন ।  তাঁর  অনেক  রচনাবলী  এখনো   বিক্ষিপ্ত   ভাবে   ছড়িয়ে  ছিটিয়ে  রয়েছে ।  তাঁর  রচিত  এমন  অনেক  গুলো  বই  রয়েছে   যে   তার  একটি  কপিও  তাঁর  কাছে  ছিল  না ।  কবি  বন্দে  আলী  মিয়া দুঃখকে  আঁকড়ে  ধরে  ধৈর্যের  সাথে  প্রবাহমান  সময়  অতিবাহিত   করলেও   কখনো   সাহিত্য   চর্চ্চায়   পিছপা হননি ।

কলকাতা,  ঢাকা  ও  রাজশাহী,  এ  তিনটি  স্থানই  ছিল তাঁর  কর্মস্থল  ।  তিনি  সময়  সুযোগ  পেলেই  শিশুদের  সাথে  হাসি ঠাট্টায়  মেতে  উঠতেন, আর ছড়া কেটে কেটে কথা  বলতেন   এবং হাতের  কাছে  কাগজ-কলম  পেলেই   ছড়া লিখতেন, এটা ছিল তাঁর চিরন্তন স্বভাব । জীবনের  শেষ  দিনগুলোতে  তিনি  রাজশাহীতেই  অবস্থান করছিলেন এবং  জীবনের  শেষদিন  পর্যন্ত  রাজশাহী  রেডিওর  সাথেই   জড়িত  ছিলেন । ১৯৭৭  সালে  নাটোর টেলিভিশন  উপকেন্দ্রের  তিনি  উদ্বোধন  করেন ।  তাঁর  এ  সম্মানে  আমরা  সবাই  গৌরববোধ  করেছি ।

কবি বন্দে আলী মিয়ার ১০৬ তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক কবি আল মুজাহিদী, প্রধান আলোচক কবি হাসান আলীম ও সভা প্রধান হিসেবে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন কবি লিলি হক্ । অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিএনসি’র নির্বাহী পরিচালক কথা সাহিত্যিক মাহবুবুল হক । কবি সম্পর্কে বলতে গিয়ে অতিথিগণ বলেন, “সাহিত্য ভুবনে কবি বন্দে আলী মিয়া এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সব্যসাচী লেখক । সাহিত্যের সব শাখায় তিনি বিচরণ করেছেন । জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অসংখ্য গ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন । তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক । তিনি তাঁর কবিতায় স্বপ্নলোকের কথা, গাঁয়ের মেঠোপথে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন ।” আরও বলেন, “বাংলাদেশের সকল পত্রিকায় তৎকালীন সময়ে তাঁর লেখা প্রকাশিত হতো । কিন্তু  তাঁর  সাহিত্য  নিয়ে  আলোচনা  খুব  কমই  হয়েছে । আমাদের সাহিত্যের প্রধান প্রধান আলোচক বা সমালোচকগণ তাঁকে নিয়ে তেমন আলোচনা করেননি । তাঁর রচনাবলী, শিশুতোষ  সমগ্র  এবং  তাঁর  কবিতা  ও  গদ্যাংশ  নিয়ে  আলাদা  গ্রন্থ  প্রকাশেরও তাগিদ দেন ।”

সরকারী ভাবে কবির  মৃত্যু  বার্ষিকী  পালিত  না  হলেও  পাবনার কবিভক্ত ও অনুরাগীরা দিনটি  ঠিকই স্মরণ করে ।  কবির  মৃত্যুর  পর যথাযথ  সংরক্ষণের  অভাবে  ধ্বংস  হতে  বসেছে  কবির  পাবনা  শহরের  রাধানগর মহল্লার বসতবাড়ি  ‘কবিকুঞ্জ’  ও  রেখে  যাওয়া  কর্মগুলো ।  এদিকে  কবির  মৃত্যুর  পরে  সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় থেকে  সামান্য  কিছু  টাকা  ভাতা  দেওয়া  হত ।  কিন্তু  গত  কয়েক  বছর  ধরে  সেটিও  বন্ধ  করে  দেয়া হয়েছে ।

 পাবনা বাসীর  দাবির  মুখে  পাবনা  পৌরসভার  উদ্যোগে কবি  বন্দে  আলীর  নামে  পাবনা  বাইপাস  সড়কের ও  পাবনা  কেন্দ্রীয়  বাস  টার্মিনালের  নামকরণ  করা  হয় ।  কিন্তু  সড়কটির  নাম  ফলকটি  এখন  আর  নেই ।  এছাড়াও  কবি  বন্দে  আলী  মিয়া  শিশু  শিক্ষা  নিলয়,  জেলার  আটঘরিয়া  উপজেলায়  কবি  বন্দে আলী  মিয়া  নামে  একটি  উচ্চ  বিদ্যালয়,  কবি   বন্দে   আলী   মিয়া   স্মরণ   পরিষদ,  কবি   বন্দে   আলী   মিয়া   শিশু  একাডেমি   প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে ।    

 বাবা-মায়ের  সম্মতিক্রমে  তিনি পাবনা  শহরের  জেলাপাড়া  মহল্লার  রাবেয়া  খাতুনের  সঙ্গে  বিবাহ  বন্ধনে  আবদ্ধ  হলেও  বিভিন্ন সুত্র ও তাঁর জীবনীগ্রন্থ থেকে আরও কয়েকটি বিয়ের প্রায় অসম্পূর্ণ তথ্য পাওযা যায় ।  যেমন,- কলকাতা,  রাজশাহী  ও  ঢাকাতেও নাকি তিনি  সংসার   পেতেছিলেন ।  সেক্ষেত্রে  হেনা,  শামসুন্নাহার  ও  পরীবানু  নামে তাঁর আরও তিন স্ত্রী’র কথা শোনা গেলেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানা যায় না, আবার কোন কোন সুত্র থেকে এমনও   শোনা   যায়   যে, কবি বন্দে  আলী   মিয়ার   নওগাঁ   জেলাতেও    নাকি আর ও   একটি সংসার   ছিল ।

 তিনি জীবনে অনেক কষ্টও যেমন করেছেন, তেমনি আবার সুনাম, সম্মান ও সম্মাননাও কম পাননি । শিশু সাহিত্যে  উল্লেখযোগ্য  অবদানের  জন্য  ১৯৬২  সালে  বাংলা  একাডেমী  পুরস্কার,  ১৯৬৫  সালে   প্রেসিডেন্ট  পদক এবং  মৃত্যুর  পরও  তিনি   ১৯৮৮  সালে মরণোত্তর একুশে  ও  ১৯৯০  সালে   মরণোত্তর স্বাধীনতা  পদক পান ।

১৯৭৫  সালের  সেপ্টেম্বর  মাসে কবি বন্দে  আলী  মিয়ার  ‘ধরিত্রী’  কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ পায় । সেই  কাব্যগ্রন্থে স্থান পাওয়া তাঁর জীবনের শেষ কবিতা ‘বিদায় প্রহর’ কবিতার অংশ বিশেষ ‘প্রতীতি’র  বন্দে  আলী  সংখ্যায়  প্রকাশিত হয় । ‘বিদায় প্রহর’  কবিতার  সেই  অংশ  বিশেষ  নিচে তুলে ধরা হ’লো ।

‘এবারে আমার শেষ হয়ে এলো
প্রবাসের দিনগুলি
যাবার বেলায় বারে বারে হায়
মন ওঠে তবু দুলি ।
কেটেছে হেথায় কয়টি বছর
সুখে-দুখে বেদনায়
স্মরণ ভরিয়া রহিল সে সব
ভুলিব না কভু তায় ।
আমার স্মরণে তোমাদের ছবি
জেগে রবে অনুক্ষণ
বিদায় এবার ফুরায়েছে মোর
প্রবাসের প্রয়োজন ।’
(শেষ কবিতা)

 বর্ণাঢ্য জীবনের  অধিকারী   পাবনার   কৃতি   সন্তান   কবি  বন্দে   আলী   মিয়া  ১৯৭৯   সালের  ২৭   জুন   রাজশাহীর কাজিরহাট  অঞ্চলের  নিজ  বাসভবনে  সকাল  ১১টা ১০  মিনিটে  হৃদরোগে  আক্রান্ত  হয়ে  শেষ  নিঃশ্বাস  ত্যাগ  করেন । মৃত্যুকালে  কবি  বন্দে  আলী  মিয়ার  বয়স  হয়েছিল  ৭৩  বছর ।

 শেষ হয়েও হয়না যেন শেষ ! কবির  অনেক  লেখা  এখনও  তাঁর সজনদের  কাছে  পরে  আছে,  সে  গুলো সরকারী  উদ্যোগে যেন ছাপানো হয় এবং কবির  বাড়ি  ও  তাঁর  রেখে  যাওয়া  কর্মগুলো  যেন সরকারী  উদ্যোগে  ট্রাষ্টবোর্ড গঠণের মাধ্যমে  সংরক্ষন  করা  হয় । সব শেষে কবির সজনদের এই আকুতিটুকু নিবেদন করে গেলাম।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

কবি, বন্দে-আলী-মিয়া, ছোটদের, পাবনা, রাধানগর, আমাদের-গ্রাম, রাজশাহী, শিশু-সাহিত্যে, কলকাতা, শিশু--শিক্ষা--নিলয়