সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

ArcaBoard_large_26.jpg

প্রযুক্তির মাইলফলক প্রযুক্তির নতুন মাইলফলক - অার্কাবোর্ড, এবার শূন্যে ভাসবে মানুষ

শূন্যে ভেসে থাকার পদ্ধতি অাবিষ্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অার্কা স্পেস কর্পোরেশন (ARCA Space Corporation) -এর একদল গবেষক। তাঁরা অার্কাবোর্ড (ArcaBoard) অাবিষ্কারের মাধ্যমে বিশ্বকে জানিয়ে দিলো, এবার সত্যি সত্যিই মানুষ শূন্যে ভেসে থাকতে পারবে। যেখানে সেখানে যেতে পারবে।

সত্যিকার অর্থে পাখির মতো উড়ার সাধ মানুষের অাজও মেটেনি। এই সাধ পূরণ করতে গিয়ে মানুষ কি না করেছে! অার এসব করতে গিয়ে কত মানুষের প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে তার হিশেব হয়তো ইতিহাসে নেই। তবুও থেমে থাকেনি মানুষের অদম্য প্রচেষ্টা।
অবশেষে মার্কিন প্রকৌশলী রাইট ভ্রাতৃদ্বয় অরভিল ও উইলবার সফল হলেন। তারপর থেকে অার পিছিয়ে তাকাতে হয়নি। হেলিকপ্টার, উড়োজাহাজ, জেটপ্লেন, রকেট কতকিছুই অাবিষ্কার হলো।
অামরা এখন ইচ্ছে করলেই অাকাশে উড়তে পারি ঠিকই, কিন্তু পাখির মতো নয়। যন্ত্রের ভিতরে ঢুকে চুপটি করে বসে থেকে অাকাশে উড়া অার পাখির মতো অাকাশে উড়া অবশ্যই এক জিনিস নয়। তাই অাজকাল অাকাশে উড়ার চাইতে দ্রুত যোগাযোগ ও বিলাসিতার জন্য হেলিকপ্টার-বিমান ব্যবহার করা হয়।
তবে এটা সত্য যে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটেছে, পুরোপুরি নয়। তাই যারা অাকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখেন তাদের কাছে হেলিকপ্টার বা বিমানে বসে অাকাশভ্রমণের চাইতে প্যারস্যূটে চড়ে অবতরণ অনেক রোমাঞ্চকর। কিন্তু প্যারস্যূটে চড়েও মানুষের সেই পাখির মতো অাকাশে উড়ার সাধ অাজও পুরোপুরি মিটেনি।
তাই বলে কি মানুষ থেমে থাকবে? কিন্তু মানুষ যে দুর্নিবার। থেমে থাকেনি মানুষের প্রচেষ্টা। এইতো কিছুদিন অাগে বিজ্ঞানীরা অাবিষ্কার করলো হোভারবোর্ড এটির সাহায্যে মানুষ ভূসংলগ্ন হালকা ভাসা ভাসা অবস্থায় একস্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে পারবে।
কিন্তু এটা দিয়ে অভিকর্ষজ ত্বরণের বিরুদ্ধে গিয়ে মানুষ শূন্যে ভেসে থাকতে পারবেনা। অার শূন্যে ভেসে না থাকার মানেই হলো অাকাশে উড়ার অক্ষমতা। কিন্তু এই অক্ষমতাকেই সক্ষম করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অার্কা স্পেস কর্পোরেশন (ARCA Space Corporation) -এর একদল গবেষক। তাঁরা অার্কাবোর্ড (ArcaBoard) অাবিষ্কারের মাধ্যমে বিশ্বকে জানিয়ে দিলো, এবার সত্যি সত্যিই মানুষ শূন্যে ভেসে থাকতে পারবে । যেখানে সেখানে যেতে পারবে।
অার্কাবোর্ড কী?- সহজভাষায় অার্কাবোর্ডকে অাপনি রূপকথার চাঁদর বলতে পারেন, যেখানে দাঁড়িয়ে থেকে যখন তখন যেখানে সেখানে যাওয়া যায়। অার্কা স্পেস কর্পোরেশনের সিইও Dumitru Popescu এর ভাষ্যমতে, গত ১৭ বছর ধরে তাঁরা অ্যারোস্পেস প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে।
 তাঁদের স্বপ্নই হলো অাকাশে উড়াকে নিয়ে। অার এই স্বপ্ন পূরণ করতে তাঁদের সমস্ত রকম জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগায় । অবশেষে তাঁরা সফল হয়।
অার্কাবোর্ডের হলো ২৭২ অশ্বশক্তি (H.P) ও ২০৩,০০০ ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক উড্ডীন যন্ত্র। উদ্ভাবক দল দাবি করেন, এ পর্যন্ত অাবিষ্কৃত সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ব্যক্তিগত পরিবহন হলো অার্কাবোর্ড।
অার্কাবোর্ডের সুবিধা হলো, এটাকে রিমোট কন্ট্রোলিং করা যাবে, এমনকি স্মার্টফোন দিয়ে। রিমোট কন্ট্রোলিংয়ের মাধ্যমে যন্ত্রটিকে মানুষসহ উপর-নিচ এবং যেকোন দিক পরিবর্তন করা যাবে অর্থ্যাৎ যেখানে ইচ্ছা সেখানে নেয়া যাবে।
সক্ষমতা- এই পরিবহন যন্ত্রটি অাপাতত ৩০ সে.মি বা ১ ফিট উঁচুতে উড়তে সক্ষম এবং উপরের দিকে এর গতি প্রায় ২০ কি.মি./ঘন্টা। মোট ৬ মিনিটের মতো যন্ত্রটিতে চড়ে শূন্যে থাকা যাবে।
এই প্রযুক্তিটি সর্বোচ্চ ১১০ কেজি ওজনের মানুষকে নিয়ে শূন্যে ভেসে থাকতে সক্ষম। অার্কাবোর্ডের সম্পূর্ণ পারফরম্যান্স নির্ভর করবে এর সেন্সরের উপর।
গঠন ও কার্যপ্রণালী- কম্পোজিট বিভিন্ন ধরণের ধাতু দিয়ে মূলত অার্কাবোর্ড গঠন করা হয়েছে। এটার দৈর্ঘ্য ১৪৫x ৭৬ x১৫ সে.মি. এবং ওজন হলো ৮২ কেজি।
মূল্য ও শিপমেন্ট- যন্ত্রটি কিনতে অাপনাকে $১৯,৯০০ ডলার গুণতে হবে। অার শিপমেন্ট চালু হবে ২০১৬ এর ১৬ই এপ্রিলে।
ভবিষ্যৎ- উদ্ভাবক ও বিজ্ঞানীর দল অার্কাবোর্ড নিয়ে যথেষ্ট অাশাবাদী। অতিসত্তর এই অার্কাবোর্ড অামাদেরকে অারো অপ্রত্যাশিত কিছু উপহার দিতে চলেছে। ইতোমধ্যে বিজ্ঞানমহলে অার্কাবোর্ড বেশ জনপ্রিয় ও গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রযুক্তি বিজ্ঞানে নতুন মাইলফলক হিশেবেও দেখা হচ্ছে। 
ছবি ও উৎসঃ www.arcaspace.com

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

আর্কাবোর্ড, আকাশে-উড়া, রিমোট-কন্ট্রোল, বিজ্ঞান, আবিষ্কার