সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Sweet-Heart.jpg

মুভি রিভিউ সুইটহার্ট- মিষ্টি প্রেমের সিনেমা

এরকম যত্ন নিয়ে সিনেমা বানালে যেকোনো নরমাল কাহিনির সিনেমাও দেখতে খারাপ লাগে না। এই যত্নের ধারাবাহিকতা সামনে পাব বলে আশা করি।

সিনেমার নাম- সুইটহার্ট (২০১৬)

প্রথমে সিনেমার ট্রেলার দেখে খুব একটা আগ্রহ হয়নি, কিন্তু সিনেমা দেখার পরে পুরো উল্টো রিএকশন- এরকম সিনেমার সংখ্যা আমার ক্ষেত্রে কম। সেই কমের মাঝে অনেকদিন পর জায়গা করে নিল বাংলা সিনেমা সুইটহার্ট। 

সিনেমার নাম যেমন রোম্যান্টিক, সিনেমাটাও ঠিক তেমনি আগাগোড়া রোম্যান্টিক। দুই ধর্মের দুইজন মানুষের ভালোবাসা, এরপরে এর মাঝে আরেকজনের আগমন- এই নিয়ে কাহিনী। সেটাকেই যত্নের সাথে পর্দায় তুলে ধরেছেন পরিচালক। 
বাপ্পির দুটো সিনেমা আমি দেখেছি- তার প্রথম সিনেমা "ভালোবাসার রং" আর "জটিল প্রেম"। দুঃখজনক হলেও সত্য, তাকে আমার ভাল লাগেনি। কেমন যেন শিশুতোষ অভিনয়।
কিন্তু এই সিনেমাতে তিনি ঠিক উল্টো, বলব না তিনি আমূল পরিবর্তন এনেছেন, তবে তার সর্বাত্মক চেষ্টা ছিল এবং সেটা বেশ ভালভাবেই চোখে ধরা পড়েছে। তার ভয়েস ডাবিং অন্য কেও করেছেন- তাকে ভাল লাগার আরেকটা কারণ এটা। কোন চিৎকার করে সংলাপ বলেননি, ইমোশনাল দৃশ্যতেও ভাল করেছেন।
অনেকদিন পর রিয়াজকে দেখলাম, তবে তার কাছে এক্সপেকটেশন আরেকটু বেশি ছিল। লন্ডনের মাল্টি বিলিয়নিয়ার এর থলথলে শরীর ঠিক মানায় না। বাপ্পি আর খুরশেদুজ্জামান উৎপলের দুই এক জায়গায় উচ্চারণে সমস্যা ছিল। 

বিদ্যা সিনহা মীম- তার সৌন্দর্যে মাথা ঘুরায়, তার সৌন্দর্য বুকে কাঁপন ধরায়। বর্তমানে বাণিজ্যিক সিনেমার জন্য তার মত গরজিয়াস আর গ্লামারাস নায়িকা আমার মতে আর কেও নাই। অভিনয়ে আগের চেয়ে অনেক উন্নতি করেছেন। সিনেমার কোন ত্রুটিতে ঠিকমতো মনোযোগ দিতে পারছিলাম না শুধু মীমের কারণে, অদ্ভুত সৌন্দর্য! শাড়ি থেকে শুরু করে ওয়েস্টার্ন ড্রেস- সবকিছুতেই তিনি সমান সাবলীল। 

সিনেমার আরেকজনের কথা না বললেই নয়- তিনি শম্পা রেজা। এই ক্যারেক্টারে শম্পাকে যিনি চয়েস করেছেন, তার জন্য একটা বড় থাম্বস আপ! সিনেমাতে অনেক ইংরেজি সংলাপ আছে আর সেটা শম্পা ছাড়া এভাবে ডেলিভারি দেয়ার মত আর কারো কথা আমার এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।এমনকি ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র হয়ে আমি নিজেও মনে হয়না এত সঠিক উচ্চারনে ইংরেজি বলতে পারব।

সিনেমার গান, মালয়েশিয়ার সুন্দর লোকেশন, কস্টিউম- সব কিছুতে যত্নের ছাপ। যত্ন আছে সংলাপেও এবং সবচেয়ে বড় কথা সংলাপ কোথাও থেকে মেরে দেয়া না, সংলাপ আব্দুল্লাহ জহির বাবু লেখার পরেও।
বিরতির পরে ভাল একটা টুইস্ট আছে। দুই ধর্মের মানুষের ভালোবাসার কাহিনী হলেও পরিচালক ধর্মের কচাকচানি আনেননি- এটা ভাল লেগেছে। অনেকদিন পর গুরু জেমসের গান পারফেক্ট সিচুয়েশনে শুনে মনটাই ভাল হয়ে গেছে, বাকি গানগুলাও সুন্দর।
ছোটখাটো কিছু যত্ন ভাল লেগেছে- শম্পা রেজা আর মীম নিজেদের অসহায় অবস্থায় বিছানায় আধ শোয়া, তখন তাদের কুকুরটাকেও তাদের পাশে মনমরা হয়ে শোয়া অবস্থায় দেখা যায়- সবাই মিলে যেন শোকের অবস্থা প্রকাশ করছে- ভাল লাগে এরকম ডিটেলিং। অথবা সিনেমার শেষে পরিবেশের উপর ভিত্তি করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার ব্যবহার।  

সিনেমার পরিচালক ওয়াজেদ আলি সুমন। আমি সুমন আর বাপ্পির কাছ থেকে বেশি অবাক হয়েছি। দুইজনেই তাদের পূর্বের কাজ থেকে একেবারেই ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করেছেন এবং সবচেয়ে বড় কথা, যত্নের সাথে করেছেন। এরকম যত্ন নিয়ে সিনেমা বানালে যেকোনো নরমাল কাহিনির সিনেমাও দেখতে খারাপ লাগে না। এই যত্নের ধারাবাহিকতা সামনে পাব বলে আশা করি। 

পুনশ্চ- বিরতির সময় রাজা ৪২০ আর হিরো ৪২০ এর ট্রেলার দেখলাম। রাজা ৪২০ নিয়ে কিছু বলার নাই, সেই "আসিতেছে" টাইপ সিনেমা আর হিরো ৪২০ মুখে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা, কিন্তু চোখে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে নিজের দেশের শিল্পী খুঁজতে হয়।
এতসব ৪২০ এর ভিড়ে সুইটহার্টের মত মৌলিক গল্পের সিনেমা হারায় গেলে বা হলে গিয়ে না দেখলে আমাদের জন্যই সমস্যা। বিদ্যা অর্জনের জন্য আমরা যদি সুদূর চীন দেশে যেতে পারি, তাহলে শুধু (বিদ্যা) সিনহা মীমকে দেখার জন্য কি আমরা নিজেদের নিকটস্থ সিনেমাহলে যেতে পারি না?

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

রোম্যান্টিক-ধাঁচ, ভালোবাসা, ধর্ম, রিয়াজ, বাপ্পী, মিম, বাংলা-ছবি, সুইট-হার্ট