সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

vola.jpg

বাংলা ছবি মৌলিক গল্পের সিনেমা; ভোলা তো যায়না তারে

অন্য ছবি থেকে কপি করা ছবি দেখতে না চাইলে ভোলা তো যায়না তারে আপনি চোখ খুলে দেখতে পারেন। কারণ সম্পূর্ণ মৌলিক একটি গল্প নিয়ে দু’টি ধর্মের যুবক-যুবতীর প্রেম কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে ‘ভোলা তো যায় না তারে’ ছবিতে।

অনেকদিন আটকে থাকার পর গত ১৮ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ভালোবাসার গল্প নিয়ে মৌলিক গল্পের চলচ্চিত্র ‘ভোলা তো যায় না তারে’। 

এই ছবিটি নিয়ে আগ্রহ থাকার কারণ হল এই ছবির নায়িকা তানহা তাসনিয়ার জন্য। কারণ সে আমার বিশ্ববিদ্যালয় (নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ) এর ছাত্রী। যিনি ফেসবুকের মাধ্যমে এই ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পান। আর ছবিটিও মৌলিক গল্প নিয়ে নির্মিত, যা হিন্দি সিনেমার থেকে কপি করা না।

ছবির কাহিনীতে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মেধাবী ছাত্র রুদ্র। বাবা গ্রামের স্কুল শিক্ষক। ইসলাম ধর্মের অনুসারি এ যুবকের সঙ্গে প্রেম হয় হিন্দু ধর্মের মেয়ে নীলাঞ্জনার। শহরের ধনাঢ্য পরিবারের একমাত্র মেয়ে নীলাঞ্জনা। বড়লোকের ছেলে চন্দনের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়। 

নীলাঞ্জনা ও রুদ্র পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। তারা আশ্রয় নেন রুদ্রর খালাতো ভাইয়ের কাছে। সংসার জীবন শুরু করতে না করতেই সব উলট-পালট হয়ে যায়। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় রুদ্র। তার চিকিৎসার জন্য ৪০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। নীলাঞ্জনা ও রুদ্রর পরিবার টাকা জোগার করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেন। 

নীলাঞ্জনার বাবা খবর পেয়ে নীলাঞ্জনার সঙ্গে দেখা করেন। রুদ্রর চিকিৎসার জন্য যত টাকার প্রয়োজন সব দিবেন তিনি, তবে শর্ত রুদ্রকে ছেড়ে চলে আসতে হবে এবং চন্দনকে বিয়ে করতে হবে। প্রথমে রাজি না হলেও পরে রুদ্রকে বাঁচাতে বাবার শর্তে রাজি হতে বাধ্য হন নীলাঞ্জনা। 

কিন্তু স্বামীর সংসারে নিজেকে মানিয়ে নিতে তার কষ্ট হয়। ভুলতে পারে না রুদ্রকে। এদিকে রুদ্র সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসেন। জানতে পারেন নীলাঞ্জনা এখন অন্যের ঘরে। রুদ্র ঘর ছাড়া হয়ে পথে পথে খোঁজে বেড়ায় নীলাঞ্জনাকে। এক সময় পাগল হয়ে যায় রুদ্র, বদ্ধ পাগল। অন্যদিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন নীলাঞ্জনা। 

তখন শশুড়ের কাছ থেকে সব জানতে পারেন নীলাঞ্জনার স্বামী চন্দন। বাবা, ভাই ও বোন কেউ জানে না রুদ্র কোথায় আছে। বেঁচে আছে- না মরে গেছে। নীলাঞ্জনাও তার খোঁজে গ্রামে আসে। একদিন গ্রামে যাওয়ার পথে রুদ্রকে খুঁজে পায় তার খালাতো ভাই। তবে, জীবিত নয়- মৃত। রুদ্রকে পাওয়া গেছে খবর পেয়ে গ্রামে ছুটে যায় নীলাঞ্জনা।

ছবিটি কেন দেখবেনঃ

  • মৌলিক গল্পের সিনেমা।
  • ছবির নামের সাথে গল্পের মনে হয় পুরোপুরি মিল রয়েছে। এক কথায় ছবির নামের সাথে কাহিনীর স্বার্থকতা পাওয়া যায়।
  •  নিন্দু মুসলিম ভালোবাসার গল্প হলেও একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
  •  রোমান্টিক ছবি হলেও কোনো মারপিট এর দৃশ্য নেই।
  •  জোড় দর্শকদের হাসানোর ব্যর্থ কোন চেষ্টাও করা হয়নি।
  • আইটেম গানের নামে অশ্লীলতা নেই।
  •  পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মতো ছবি।
  •  পুরো ছবির দৃশ্যায়ন আমাদের এই বাংলাদেশেই হয়েছে।
  •  গল্পের ধারাবাহিকতা মোটামুটি ঠিক ছিলো।
  •  গানের সংখ্যা মাত্র তিনটি হলেও প্রত্যেকটিই ভালোলাগার মতো শ্রুতিমধুর, দৃশ্যায়নও ভালো ছিল।
ছবিটির কিছু দুর্বল দিকঃ
  • ছবিটিকে ১০০ ভাগ বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র বলা যাবে কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।
  • মেক আপ আরও ভালো হতে পারত। 

এটি রফিক শিকদারের পরিচালনার প্রথম চলচ্চিত্র ও ধলেশ্বরী ফিল্মসের প্রথম প্রযোজনা। এ ছবির মাধ্যমেই চলচ্চিত্রে অভিষেক হলো তানহা তাসনিয়ার। জুটি বেঁধেছেন চলচ্চিত্রের নায়ক নিরবের সঙ্গে।  আরো অভিনয় করেছেন মাসুম আজিজ. হিল্লোল, সুব্রত, তপন প্রমুখ। 

পরিচালক নতুন হিসেবে অনেকটা ভালো করেছেন। চেষ্টা করেছেন দর্শক ধরে রাখতে। নায়ক নিরবের অভিনয়ে ভিন্নতা এসেছে। তার আগের ছবিগুলোর চেয়ে এ ছবিতে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। নায়িকা তানহা নতুন হলেও অভিনয় মন্দ করেননি।

অন্য ছবি থেকে কপি করা ছবি দেখতে না চাইলে "ভোলা তো যায়না তারে" আপনি চোখ খুলে দেখতে পারেন। কারণ সম্পূর্ণ মৌলিক একটি গল্প নিয়ে দু’টি ধর্মের যুবক-যুবতীর প্রেম কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে ‘ভোলা তো যায় না তারে’ ছবিতে। যার কাহিনী পরিচালকের নিজের লেখা।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

বাংলা-সিনেমা, মৌলিক-গল্প, ভালো-ছবি