সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২.jpg

মুভি রিভিউ ক্রিকেট নিয়ে ছবি পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২

ক্রিকেট নিয়ে টক শো, সেখানে ব্যক্তিজীবন নিয়ে আলাপ যা একটু খটকা লাগায়! তবুও সিনেমার স্বার্থে মেনে নেয়া যেতেই পারে। কিন্তু ইমনের চরিত্রটিকে দিয়ে তামিম ইকবালকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? মদ্যপ এবং চরিত্রহীন হিসেবে তাকে দেখানো হয়েছে।

ক্রিকেট নিয়ে প্রথমবারেরমত বাংলাদেশে ছবি নির্মিত হয়েছে এবং যার প্রথম পার্ট পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী অনেক হিট হয়েছিল, তাই পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২ ছবি নিয়ে আগ্রহ ছিল। যদিও প্রথম বারের থেকে এবারের গল্প পুরাটাই অন্যরকম।

প্রথম পর্বের মত এটিও একটি মৌলিক গল্পের সিনেমা। কারণ কাহিনী এবং সংলাপ লিখেছেন রুম্মান রশিদ খান, তার লেখার সুখ্যাতির কথা সবাই জানে। শাকিব ক্রিকেটার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। জয়া অভিনয় করেছেন মডেল চরিত্রে। জয়ার বিপরীতে শাকিব ছাড়াও অভিনয় করেছেন ইমন।

এছাড়াও মৌসুমী হামিদও প্রথমবারের মত শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওমর সানি, সাদেক বাচ্চু, শহীদুল আলম সাচ্চু, শিরিন বকুল, বীর জাদা, গুলশান আরা, ফারদিন মাহিসহ আরো অনেকে।

এ সিনেমায় প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় দেখা যাবে সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন এবং সংবাদিক জ.ই. মামুনকে।  এই ছবিটি পরিচালনা করছেন সাফিউদ্দিন সাফি। 


২০১৪ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর শুরু হয় ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২’ ছবির শুটিং। শুটিং হয়েছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ আর ভারতের হায়দরাবাদের রামোজি ফিল্ম সিটিতে। 

সিনেমার সারসংক্ষেপঃ 
প্রথমেই দেখা যায় প্রযোজক ডঃ মাহফুজুর রহমান এর চ্যানেল এটিএন বাংলার টক শো। জনপ্রিয় উপস্থাপক জ.ই. মামুনের সঞ্চালনায় আলোচক জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন এবং জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবর।

মামুন শুরুতেই জানালেন অধিনায়ক ভাল করছে না। তার কোন ফিফটি বা সেঞ্চুরী নেই। তার দলে থাকা নিয়ে কথা হচ্ছে। শাকিব ৫৫ করে আউট!! এরপর শুরু হলো শাকিবের একান্ত ব্যক্তিজীবন নিয়ে আলোচনা।

ক্রিকেট নিয়ে টক শো, সেখানে ব্যক্তিজীবন নিয়ে আলাপ যা একটু খটকা লাগায়! তবুও সিনেমার স্বার্থে মেনে নেয়া যেতেই পারে। কিন্তু ইমনের চরিত্রটিকে দিয়ে তামিম ইকবালকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? মদ্যপ এবং চরিত্রহীন হিসেবে তাকে দেখানো হয়েছে। তার চাচা মানে আকরাম খানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তামিমকে কেন নষ্ট ছেলে হিসেবে দেখানো হলো?  

ডায়লগে বলা হচ্ছে খান সাহেব কিংবা তোমার চাচা আছে! তার উপর ক্রিকেটের হাইলাইটস-এ মিড ফ্রেমে পুরোটা, যা আধুনিক যুগে অকল্পনীয়! প্র্যাকটিস শেষে শাকিব বের হচ্ছে। তার কাঁধে থাকবে ক্রিকেটের কিটস ব্যাগ।

সেখানে তার কাধেঁ দেয়া হয়েছে ক্যামেরার ট্রাইপড’র ব্যাগ আর অন্য হাতে একটা সাধারণ ব্যাট। কিন্তু মারপিটের দৃশ্যে ব্যাট হয়ে গেল ৫/৭ ঢেউ খাওয়া কাঠের টুকরা! জয়া আসলো শাকিবের প্র্যাকটিস ম্যাচ দেখার জন্য, কিন্তু দেখানো হল শাকিবরা নেটে প্র্যাকটিস করছে, তাও নেটের ভেতর ৩/৪ জন ফিল্ডার। 

সিনেমার আধা ঘন্টার গল্প ফেলে দেয়া হয়েছে। নতুবা ক্রিকেটীয় উন্মাদনা, দলের সেরা ব্যাটসম্যান হঠাৎ গায়েব অথচ কেউ কিছু বলছে না, ইমনের দেশকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য (মূলত তামিম ইকবাল) করা যা শেষে সে স্বীকার করে লজ্জিত হয় এমন বহুকিছু গায়েব।

জার্সি এবং স্ট্যাম্প এক রঙের হয় কিভাবে? এছাড়া সব মিলিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২ ছবিটিকে স্বার্থক বলা যায়। যদিও ক্রিকেট নিয়ে ছবিটিতে ক্রিকেটের সব কিছু মিলিয়ে উপস্থাপন করতে পারেনি কেউই। 

ভালো লাগলো যাঃ 
  • যখন ইমন টাকার ব্যাগ ফেরত দিয়ে বলে শাকিবের সাথে ব্যক্তিগত দ্বন্দ আছে কিন্তু দেশের সাথে দ্বন্দ নেই। কোনভাবেই পাকিস্তানের কাছে বিক্রি হবে না। কারণ সে দেশের জন্য খেলে। 
  • গানগুলো খারাপ না হলেও, আগের পর্বের "তুমি আছ বলে" এর মত না।
  • শাকিবের চমৎকার অভিনয়, এক্সপ্রেশন, নাচ ভালো ছিল।
  •  বালাজি স্টুডিওতে এই প্রথম বাংলাদেশী সিনেমা। 
  • শাকিব-মৌসুমী হামিদের গানটার এডিটিং ভালো লাগার মত, নাচও চমৎকার।
  • অশ্লীলতা ছিলোনা।
  • মিস্টি একটি প্রেমের সিনেমা।



এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

পূর্ণদৈর্ঘ্য-প্রেম-কাহিনী-২, বাংলা-ছবি, শাকিব-খান, জয়া-আহসান