সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

nnn.jpg

তামিমের মহানুভবতা

যে কোন সিরিজ এলেই ক্রিকেটাররা যখন মাঠে অনুশীলন করেন, তখন তামিম ইকবাল মেতে থাকেন ভিন্ন এক কাজে। অনুশীলন এর ছলেই তিনি মাঠ কর্মীদের নিয়ে মেতে ওঠেন ছক্কা ছক্কা খেলায়।

মাঠে যেমন তেমন ব্যক্তি, তামিম ইকবাল অন্য সবার চেয়ে আলাদা। নিজে ভালো পারফরম্যান্স করলেই খুশি মনে মাঠ কর্মীদের অনেক কিছু দিয়ে থাকেন। আগেও অনেক কিছু দিয়েছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুটি সেঞ্চুরি করলেন, এমন সময় মাঠ কর্মীদের কিছু না দিয়ে কি পারেন? এক মাঠ কর্মী জানান, ম্যাচ শেষে তামিম মাঠ কর্মীদের জিজ্ঞাসা করেছেন, আপনারা খাওয়া দাওয়া করবেন নাকি টাকা নেবেন। ওই মাঠ কর্মী আরও জানান, টাকার অংক অব্যশই এক লাখ টাকার ওপরে। এর আগেও তিনি এখানে মাঠ কর্মীদের টাকা দিয়েছিলেন। এর আগে মাঠের চা তৈরিকারী  বুলু ঘোষকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল।

এখানেই থেমে থাকেননি বাংলাদেশ দলের ওপেনার হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল । যে কোন সিরিজ এলেই ক্রিকেটাররা যখন মাঠে অনুশীলন করেন, তখন তামিম ইকবাল মেতে থাকেন ভিন্ন এক কাজে। অনুশীলন এর ছলেই তিনি মাঠ কর্মীদের নিয়ে মেতে ওঠেন ছক্কা ছক্কা খেলায়। মাঠ কর্মীরা বল করেন আর বিগ বিগ ছক্কা মারেন আমাদের বম বম তামিম ইকবাল। যার বলে যত বেশি ছক্কা, তার জন্য তত বেশি টাকা। অনুশীলন শেষে অবশ্য কাউকেই হতাশ করান না তামিম। মোটা অংকের অর্থ বোনাস দেন মিরপুর স্টেডিয়াম এর মাঠ কর্মীদের কে। এ কারনে তারাও সব সময় তামিমের খুব ভক্ত। তামিম ইকবাল এর মত এ রকম দানবির ক্রিকেটার খুব কম আছে ক্রিকেট বিশ্বে ।

আবার তামিম ইকবাল পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করার পর যে ভাবে সেঞ্চুরির উযযাপন করেছিলেন তা নিয়ে অনেক কথা বলাবলি হয়ে ছিল তামিম ইকবাল কে নিয়ে। কিন্ত তামিম ইকবাল বলেছিলেন আমি কাউকে কষ্ট দেয়ার জন্য বা কাউকে উল্লেখ করে এ রকম উযযাপন করিনি। আমি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বড় ফ্যান। ও গোল করার পর প্রায়ই এভাবে উযযাপন করে। আমিও ওর মতোই করলাম, কারন গত কিছুদিন আমাকে নিয়ে খুব বেশি কথা হয়েছে। সমালোচনায় আমার আপত্তি নেই। খারাপ খেললে সমালোচনা হবে, এটা তো আমি জানিই। কিন্ত এটা যখন ব্যক্তি গত পর্যায়ে চলে যায়, তখন তা মেনে নেওয়া কঠিন। আপনারাই বলুন, আমি খারাপ খেললে আমার ফ্যামিলি কেন কথা শুনবে? রাতে আমার বউকে ফোন করে কেন কেউ গালাগালি করবে?

সবাইকে আমি একটা অনুরোধই করব, খারাপ খেললে সমালোচনা করেন ঠিক আছে। কিন্তু প্লিজ, এর মধ্যে আমার ফ্যামিলি কে টানবেন না। যতটা রাগ থেকে উযযাপন করেছি তার চেয়ে বেশি হতাশা থেকে।

তাছাড়া আমি এশিয়া কাপে টানা চারটি ফিফটি মেরে চার আঙুল দেখিয়ে ছিলাম। আমি কিন্ত এক - দুই - তিন - চার করে আঙুল কোনো ব্যক্তিকে দেখাইনি। আমার টিমমেটদের বলতে চেয়েছি, দেখো আমি টানা চারটি ফিফটি করেছি। পরিস্থিতিটা এমন ছিল যে সবাই ভেবেছে আমি বোধ হয় তা অন্য কাউকে দেখিয়েছি। তাই যদি হতো, আমি ড্রেসিংরুমের ওপরের দিকে দেখাতাম । মনে করে দেখুন, আমি কিন্ত ড্রেসিংরুমের দিকেই দেখিয়েছি ।

এর আগে লর্ডসে সেঞ্চুরি করার পরও জার্সির পেছনে হাত দিয়ে দেখিয়েছিলাম, এবার আমার নাম লিখ।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

tamim, bangladesh, cricket, greatness, kind