সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

alhamdulillah.jpg

যুক্তিকথা হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ কেন বলবো

মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। তাই আমরা অন্যসব প্রাণী থেকে আলাদা। বর্ণিত আছে, আল্লাহর নূরে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পয়দা। আর সেই নবীর নূরে সারা জাহান। (সুবহানআল্লাহ) সেই নবীজির উম্মত হতে পেরে আমরা গর্বিত। অথচ আমরা জেনে অথবা না জেনে মহান রাব্বুল আলামিনের কোন শোকর গুজার করিনা। যেমন আমরা হাঁচি দিই; হাঁচি শেষ হওয়ার সাথে সাথে আলহামদুলিল্লাহ বলে মহান রাব্বুলের কেন শোকর গুজার আমরা করবো তাই এখানে তুলে ধরছি।

হাঁচি দেইনি এমন কোন মানুষ বোধহয় আজ অবধি পৃথিবীতে আসেনি। কারণ আল্লাহ তায়ালা মহান কারিগর। লক্ষ্য করে দেখুন, নাকের মাঝে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোম আছে। কি মনে হয়? আল্লাহ অকারণে দিয়েছেন? না। আমরা প্রতিনিয়ত যে পরিমাণে ধূলা-ময়লা আবর্জনার মাঝে চলাচল করি তাতে মাস্ক পড়েও রেহায় হয়না। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টির সাথে সাথে একটি সুন্দর বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন। আপনি হয়তো ভাবছেন ছোটদের আছে কিনা? অবশ্যই আছে। যাইহোক, নাকের মধ্যের লোমে ধূলাবালি আবর্জনা জমতে থাকে। আর রোগ জীবানুকে সেখানেই আটকে দেয় সরাসরি শরীরের মধ্যে প্রবেশ করা থেকে। যারফলে আমাদের হাঁচি হয়। আর হাঁচির গতিবেগ ঘন্টায় ১০০ মাইল । যার ঝটকাতে সব ময়লা আবর্জনা নাক থেকে বের হয়ে আসে। আল্লাহ কতটা মহান আর নিখুঁত কারিগর ভাবুন।

এবার আসি মূল কথায়। যদি ১০০ মাইল বেগে ঝড় হয় তাহলে প্রকৃতিতে কি ঘটতে পারে বুঝতে পারছেন? সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে যদি ১০০ মাইল বেগে ঝড় হয় কখনো। বিজ্ঞান বলছে আমাদের ঘাড়ের চারপাশে অর্থ্যাৎ গলার চারপাশে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিরা-উপশিরা রয়েছে। যার কোনটা কোনটা ১টা চুলকে ৪০০ ভাগে ভাগ করলে যতটা সুক্ষ্ম হতে পারে ততটা সুক্ষ্ম। যা যেকোন আঘাতে ছিঁড়ে যেতে পারে। আর আপনি, আমি আমরা চলে যেতে পারি না ফেরার দেশে। অথচ ১০০ মাইল বেগে আপনার হাঁচি হওয়া সত্ত্বেও আপনি বেঁচে থাকছেন আপনার ঘাড়ের কোন শিরা-উপশিরা ছিঁড়ছেনা। তাহলে কতবড় নিখুঁত কারিগর আমাদের মহান রাব্বুল আলামিন। তাহলে হাঁচির পরে আলহামদুলিল্লাহ কেন আপনি বলবেন না? কেন তাঁর প্রশংসা করবেন না?

শুধু তাই-ই নয়। আমরা যখন হাঁচি দিই তখন আমাদের হার্ট ১ সেকেণ্ডের জন্য বায়ূশুন্য হয়ে পড়ে। যে সময়টুকুতে আপনার ভবলীলা সাঙ্গ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। যা বিজ্ঞান দ্বারা স্বীকৃত। তাহলে হাঁচি দেওয়ার পর আপনার হার্টফেল করছেন না। কারণ মহান রাব্বুল আলামিন আপনাকে অতি সুনিপুণ হাতে আপনাকে গড়েছেন। আপনার মেধা দিয়েছেন, আপনার মনন দিয়েছেন। আপনি আজ সুন্দর পৃথিবীর আলো-বাতাস-পানি বিনা পয়সায় ভোগ করছেন। তাই আসুন আমরা তাঁর প্রতি বিনীত হই নিশ্চয় তিঁনি বিপদ দিনের কান্ডারী। তাঁর শোকর গুজার করুন। হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলুন। ভাল কাজে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করেন। শুভ সংবাদে আলহামদুলিল্লাহ বলুন। কারণ, লা-ইলাহা ইল্লাললাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Alhamdulillah, Allah, Praise, Kindness, Nerve, Freshness, Breathing