সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

bangladesh-cricket.jpg

এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট আমাদের অহংকার

জনশক্তি আর গার্মেন্টস রপ্তানীর মাধ্যমে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করলেও আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে সম্মান অর্জনে 'বাংলাদেশ ক্রিকেট'ই অধিকতর অগ্রসর। তাই বাংলাদেশ ক্রিকেট আমাদের অহংকার! পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের চলমান ক্রিকেট সিরিজে আমরা একটা সুন্দর সময় পার করছি। পর পর তিনটি একদিনের সীমিত ওভারের খেলায় পাকিস্তান কে (হোয়াইট) বাংলা ওয়াশ করার পর টি-২০ তে ও পরাজিত করে সম্মান জনক ড্রয়ের মাধ্যমে সিরিজের প্রথম টেষ্ট ম্যাচটি শেষ করল বাংলাদেশ।

এটি ছিল রেকর্ড গড়ার এক দারুন ম্যাচ! যে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম উইকেটে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস ৩১২ রানের জুটি করে তৃতীয় ও চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড করলেন! ব্যক্তিগত রানের ক্ষেত্রেও তারা দুজনই তাদের পূর্বের রেকর্ড ভঙ্গ করে নতুন রেকর্ড গড়লেন! ইতোপূর্বে তামিমের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ২০১০ সালের হোম সিরিজে ভারতের বিরুদ্ধে ১৫১ রান। আর ২০১৪ সালে চট্রগ্রামের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ইমরুল করেছিলেন ১৩০ রান।

এবারে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত হোম সিরিজের প্রথম টেষ্টে তামিমের ব্যক্তিগত রানের স্কোর ২০৬, এবং এটাই বাংলাদেশের যে কোন ক্রিকেটারের করা সর্বোচ্চ স্কোরের মধ্যে সর্বোচ্চ! সেই সাথে ইমরুল কায়েস করলেন ১৫০ রান, যা তার পূর্বের করা রানের চাইতে ২০ রান বেশী! ইতোপূর্বে তাদেরই করা প্রথম উইকেট জুটির সর্বোচ্চ রান ২২৪ কে ও তারাই ভঙ্গ করলেন। অবশ্য অন্য এক ম্যাচে পঞ্চম উইকেট জুটিতে আশরাফুল আর মুসফিকের করা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ২৬৭ কে ও তামিম আর ইমরুল এবার টপকে গেলেন।

প্রায় ৫৫ বছর পূর্বে অর্থাৎ ১৯৬০ সালে ইংল্যান্ডের কলিন কাউন্ড্রে ও জিওফ পোলার দক্ষিন আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২৯০ রানের জুটি করে গড়েছিলেন যে বিশ্ব রেকর্ড সেটিই এবার ভঙ্গ করলেন তামিম আর ইমরুল! ফলে তৃতীয় ও চতুর্থ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের তামিম আর ইমরুল ৩১২ রান করে এখন বিশ্ব রেকর্ডের মালিক বনে গেলেন! এ ছাড়াও পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে ১৬৬ রানের বিণিময়ে তাইজুলের ৬ উইকেট শিকার ও অর্জন হিসাবে কম নয়!

টানা দশ ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরী করে মুমিনুল হক শচীন টেন্ডুলকার ও জন এ্যাডরিচের সাথে রেকর্ডের মালিকানায় ভাগ বসালেন। ইতোপূর্বে ছয় সেঞ্চুরী করে মোহম্মদ আশরাফুল বাংলাদেশের শীর্ষে থাকলেও এবারে সাত সেঞ্চুরী পূর্ণ করে তামিম সর্বোচ্চ সেঞ্চুরীয়ানের জায়গা দখল করে শীর্ষে চলে এলেন।

অতএব এ কথা বলা এখন আর অত্যুক্তি হবে না যে, সাদা পোশাকেও বাংলাদেশ এখন রঙিন স্বপ্ন দেখার সক্ষমতা অর্জন করেছে! নিম্নে টেষ্ট ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দশটি স্কোরের বিবরণ তুলে ধরা হ’লো:

ব্যাটসম্যানের নাম       স্কোর     বল     চার    ছয়         বিপক্ষ দল        ভেন্যু              সাল

তামিম ইকবাল           ২০৬     ২৭৮   ১৭     ০৭          পাকিস্তান         খুলনা              ২০১৫

মুসফিকুর রহিম          ২০০     ৩২১    ২২     ০১          শ্রীলঙ্কা            গল                  ২০১৩

মোহম্মদ আশরাফুল     ১৯০     ৪১৭     ২০    ০১           শ্রীলঙ্কা           গল                  ২০১৩

মুমিনুল হক               ১৮১    ২৭৪     ২৭     ০০          নিউজিল্যান্ড     চট্রগ্রাম              ২০১৩

মোহম্মদ আশরাফুল     ১৫৮*   ১৯৪    ২৪     ০৩           ভারত          চট্রগ্রাম                ২০০৪

তামিম ইকবাল          ১৫১     ১৮৩    ১৮   ০৩           ভারত            ঢাকা                ২০১০

ইমরুল কায়েস          ১৫০     ২৪০     ১৬    ০৩          পাকিস্তান         খুলনা                 ২০১৫

আমিনুল ইসলাম        ১৪৮    ৩৮০    ১৭     ০০            ভারত           ঢাকা                 ২০০০

সাকিব আল হাসান     ১৪৪    ২৪২      ১৫     ০০           পাকিস্তান        ঢাকা                  ২০১১

শাহরিয়ার নাফিজ      ১৩৮   ১৮৯    ১৯     ০০           অস্ট্রেলিয়া      ফতুল্লা                ২০০৬      


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

bangladesh, cricket, pride, national, international, record, icc