সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

shab-e-meraj.jpg

শবে মিরাজ মহাবিস্ময়কর পবিত্র মিরাজ ও এর তাৎপর্য

আল্লাহ পাক তার হাবীব রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অগণিত ফযীলত ও মর্যাদা দান করেছেন। সে মর্যাদাসমূহের মধ্যে অত্যন্ত মহিমান্বিত হচ্ছে মি’রাজ শরীফ। ইহা মহানবী (সা:) এর অন্যতম সেরা মুজিজা বা প্রচলিত নিয়মের ব্যতিক্রমধর্মী একটি অতি বড় ধরনের অসাধারণ তথা অলৌকিক ঘটনাও বটে।

শবে মিরাজ বা লাইলাতুল মিরাজ মুসলিম জীবনের পবিত্র রজনীগুলির মধ্যে অন্যতম। আল্লাহ পাক তার হাবীব রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অগণিত ফযীলত ও মর্যাদা দান করেছেন। সে মর্যাদাসমূহের মধ্যে অত্যন্ত মহিমান্বিত হচ্ছে মি’রাজ শরীফ। ইহা মহানবী (সাঃ) এর অন্যতম সেরা মুজিজা বা প্রচলিত নিয়মের ব্যতিক্রমধর্মী একটি অতি বড় ধরনের অসাধারণ তথা অলৌকিক ঘটনাও বটে।

আল্লাহ পাকের হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, বিশ্বসভার প্রেসিডেন্ট, প্রেসিডেন্টদের প্রেসিডেন্ট, দোজাহানের মহাসম্মানিত বাদশাহ, নিখিল বিশ্বের রহমত, সৃষ্ঠিকুলের মুক্তিদূত, সব শ্রীমান ব্যক্তির নেতা, বিশ্বমানবতার মুক্তির কাণ্ডারি, আমাদের প্রাণ প্রিয় বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর নব্যুওয়াত প্রাপ্তির ১০ম বর্ষে দুনিয়াবী হিসেবে তার পবিত্র হায়াতের ৫০তম বয়স মুবারক এ হিজরী রজব মাসের ২৬ তারিখ রোববার দিবাগত রাতে বা ২৭ তারিখ সোমবার পবিত্র মিরাজ শরীফ নামক এই মহা পবিত্র অসাধারণ ঘটনা সংঘটিত হয়। যদিও মিরাজ শরীফ কখন হয়েছিল তা নিয়ে সিরাত রচয়িতাদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। তবে উল্লেখিত তারিখে মিরাজ সংগঠিত হওয়া প্রসিদ্ধ মতগুলোর একটি। আমাদের দেশে উল্লেখিত তারিখেই দিবসটি পালিত হয়।

মহান আল্লাহ তায়ালার অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে জিবরাইল (আ:) মারফত মহানবী (সা:) মনুষ্য কল্পনার বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সকল গতি, সময়, কালকে পরাভূতকারি স্বর্গীয় বাহন পঙ্খিরাজ (বোরাক) এ আরোহন করে পবিত্র মসজিদুল হারাম বা মক্কা শরীফ বা কাবা চত্বর তথা বায়তুল্লাহ শরিফ থেকে মসজিদুল আকসা বা বায়তুল মোকাদ্দাসে (জেরুজালেম) উপনীত হয়ে, সেখান থেকে সপ্ত আকাশ বা সিদরাতুল মুনতাহা পেরিয়ে আরো ঊর্ধ্বে গমন করে মহান আরশে আজিমের সম্মানিত মেহমান মহান আল্লাহ পাকের দরবারে উপনীত হয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ লাভ করে আবার ধূলির ধরায় ফিরে আসার ঘটনাকে মিরাজ বলে।

কুরআন
ও হাদিসের অসংখ্য দলীল দ্বারা এবং বৈজ্ঞানিকভাবে মিরাজের ঘটনা সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত। সাধারনভাবে যদিও আমরা মিরাজ বলি, আসলে এর দু’টি অংশ রয়েছে:
  • ইসরা ও
  • মিরাজ।

ইসরা:
ইসরা অর্থ রাত্রকালীন সফর। যেহেতু মহানবী (সাঃ) এর ঊর্ধ্ব ভ্রমণ হয়েছিল রাতে তাই এর নাম ইসরা। মসজিদুল হারাম বা কাবা শরীফ থেকে মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত ভ্রমনকে ইসরা বলা হয়।

আল কুরআনে আল্লাহ পাক এরশাদ করেছেন, ‘পরম পবিত্র ও মহামহিম সত্তা তিনি যিনি তাঁর বান্দাকে (মুহাম্মাদ সা:) রাত্রকালে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি, যাতে আমি তাকে কুদরতের নিদর্শনগুলো দেখিয়ে দেই। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।’ (সূরা বনী ইসলাইল, আয়াত ১)

মিরাজ:
আল্লাহ পাকের সাথে একান্ত সান্নিধ্য (বা বৈঠক) লাভ করে আবার যমীনে তাশরীফ আনার মহারহস্যময় ঘটনাকে মিরাজ বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায় - বোরাক, তখত, রফরফ প্রভৃতিতে আরোহণ করে আরশে মুয়াল্লায় আল্লাহ পাকের সান্নিধ্যে হাযির হওয়াকেই মিরাজ বলে।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন -‍ 'নিশ্চয় তিনি (মুহাম্মদ) তাকে (জিব্রাইল আ: কে) আরেকবার দেখেছিলেন সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত। যখন বৃক্ষটি দ্বারা আচ্ছন্ন হওয়ার তদ্বারা আচ্ছন্ন ছিল। তাঁর দৃষ্টি বিভ্রম হয়নি এবং সীমালংঘন করেনি। নিশ্চয় সে তাঁর পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলী অবলোকন করেছেন।' (সূরা: আন্ নজম, আয়াত ১৩ - ১৮)।

মি‘রাজের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
বিখ্যাত ফরাসী কবি শেখ সাদী শিরাজী মিরাজের বর্ণণা দিয়েছেন এভাবে -

আল্লাহর হাবীব আম্বিয়াদের আশরাফ, নবী সে আমার
আরশে মহান হেলান দেয়া রয়েছে আসন যে তাহার।

জাহাঙ্গীরের সওয়ার হলো দ্রুতগামী এক বোরাক
আর সে বোরাক পেরিয়ে গেল রাজ প্রসাদে নীল রোয়াক।

মহানবী (স:) ২৭ শে রজব সোমবার রাতের শেষার্ধে তাঁর দুধ বোন উম্মে হানী বিনতে আবি তালিব এর গৃহে (বর্তমানে কাবা সংলগ্ন হাতিম - এ) বিশ্রাম করছিলেন। এমনি সময় দরজায় শব্দ শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেল। তিনি চোখ মেলে দেখলেন, জিব্রাইল (আ:) একদল ফেরেশতা ও বিজলীর গতি সম্পন্ন বেহেশতী বাহন বোরাক নিয়ে দরজায় অপেক্ষা করছেন। জিব্রাইল (আ:) বললেন আল্লাহ আপনাকে নিয়ে যেতে পাঠিয়েছেন। আপনি আজ আল্লাহর দীদার লাভ করবেন।

অত:পর সে মহানবী (সা:) এর সীনাচাক করে হাউজে কাওসারের পানি দ্বারা গোসল করালেন, জান্নাতি পোশাকে প্রিয় নবীজীকে সুসজ্জিত করলেন। রাসূলুল্লাহ (সা:) মহা মিলণের আকাঙ্খায় স্বতঃস্ফুর্ত চিত্তে বোরাকে  আরোহন করেন এবং বোরাক যোগে মক্কা মোকাররমা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসের দ্বারে উপনীত হন।

প্রিয় নবী সেখানে মসজিদের দরজার খুটির সাথে বোরাক বেধে যাত্রা বিরতি করেন। সেখানে পূর্বথেকেই আল্লাহর প্রেরীত পূর্ববতী অসংখ্য নবী-রাসূল ও ফেরেশতা প্রিয় রাসূলকে অভিবাদন ও সম্ভাষণ জানানোর জন্য অপেক্ষমান ছিলেন। সেখানে লাখ লাখ নবী-রাসূল ও ফেরেশতা ইমামুল আম্বিয়ার পেছনে নামাজ আদায় করে মুক্তাদি হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন।

অত:পর একটি সিঁড়ি আনা হল, যাতে নিচ হতে উপরে উঠার ধাপ বানানো ছিল। তিনি সিঁড়ির সাহায্যে সপ্ত আকাশ সমুহ ভ্রমণ করেন। প্রত্যেক আকাশে অবস্থানরত ফেরেশতারা তাঁকে অভ্যার্থনা জানান। প্রথম আসমানে হযরত আদম (আ:), দ্বিতীয় আসমানে হযরত ইয়াহিয়া (আ:) এবং হযরত ঈসা (আ:), তৃতীয় আসমানে হযরত ইউসুফ (আ:), চতুর্থ আসমানে হযরত ইদ্রিস (আ:), পঞ্চম আসমানে হযরত হারুন (আ:), ষষ্ঠ আসমানে হযরত মূসা (আ:) এবং সপ্তম আসমানে হযরত ইব্রাহীম (আ:) এর কাছে পৌছে মহনবী (স:) সকল পয়গম্বরদের সালাম দেন। পয়গম্বরগণ ছালামের জবাবের পাশাপাশি মহনবী (স:) এর নবুয়তের স্বীকৃতিও দেন। পয়গাম্বরগণের কাছ থেকে সব আসমানেরই অনেক বিবরণী জ্ঞাত হয়ে বস্তু জগতের শেষ প্রান্তে অবস্থিত সিদরাতুল মুনতাহায় (কুলবৃক্ষ) পৌঁছান। যেখানে আমাদের বোধ ও উপলব্ধি পৌছতে পারে না, সব জ্ঞানীর জ্ঞান শেষ হয়ে যায়। এখানেই রাসুলল্লাহ (সাঃ) হযরত জিব্রাঈলকে তার স্বরূপে দেখেন। তাঁর ছয় শত পাখা ছিল। অতঃপর সেখানে একটি দিগন্ত বেষ্টিত সবুজ রংয়ের রফরফ (গদিবিশিষ্ট আসন) আসে। তিনি রফরফে আরোহণ করে লা-মাকান পার হয়ে সর্বশেষ অসীমতার গুণাবলী সম্পন্ন স্রষ্টার জ্যোতির ঝলকসমূহ তথা সত্তর হাজার নূরের পর্দা পার হয়ে আরশে আযীমে উপস্থিত হন। সেখানে উপস্থিত হয়ে আল্লাহ পাককে সেজদা করেন এবং তাঁর তাহিয়্যা পেশ করেন। সেখানেই সরাসরি আল্লাহর সাথে কথা হয়। পুনরায় তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে ফিরে আসেন।

শবে মি’রাজের তাৎপর্য:

'মি’রাজে গিয়েছ তুমি পাওনি শুধু আপন স্বাদ,
বিশ্বাসীদের জন্য তুমি বানিয়েছ রাজপ্রাসাদ।'

- ফরাসী কবি নিযামী গানজুবী

ইসলামের ইতিহাসে মিরাজ অত্যান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মি’রাজ শরীফ এর লক্ষ কোটি কারণ বা তাৎপর্য রয়েছে, তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আল্লাহ পাকের সাথে মহানবী (স:) এর সরাসরি সাক্ষাৎ। এই বিশ্বের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব যে একমাত্র আল্লাহরই তা সরাসরি দেখানো। মি’রাজ শরীফের মাধ্যমে আল্লাহ পাকের সাথে হুযূর পাক (স:) এর নিগূঢ় সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে। পাশাপাশি আল্লাহ তায়ালা তার বিশাল রাজ্যের মহিমান্বিত নিশানীসমূহ স্বচক্ষে দেখানোর জন্য মহানবী (স:) কে নির্বাচিত করবেন এটাই যুক্তিযুক্ত। নূরে মুজাসসাম মহানবী (স:) ছাড়া অন্য কাউকে আল্লাহর রাজত্ব দেখানো সম্ভব নয়। কেননা স্বশরীরে আল্লাহর সাক্ষাত, চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ মানবকুলের কারো দ্বারা সম্ভব নয়। এমনকি মূসা (আ:) নবী হওয়া স্বত্তেও আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখতে চাইলে আল্লাহ পাহাড়ের পরে আলোকসম্পাত করেছিলেন, তাতেই পাহাড় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। যদিও আল্লাহ তায়ালা মূসা (আ:) কে অন্যান্য মুজিজা দিয়েছিলেন। তাছাড়া আল্লাহ পাক পরিকল্পিতভাবেই নবীকুলের বাদশাহকে অন্যান্য নবীদের থেকে সেরা মুজিজা প্রদান করবেন এটাই স্বাভাবিক। তেমনি মহানবী (স:) এর মিরাজের ঘটনা সবার কাছে গ্রহনযোগ্যতাও পেয়েছে। কেননা মহানবী (স:) সত্যবাদিতার জন্য ছেলেবেলায়ই আল-আমিন উপাধি পেয়েছিল।

সরাসরি সাক্ষাতের আর একটি বিশেষত্ব হল আল্লাহর একত্ববাদের স্বরুপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করা, নবুওয়াত ও কুরআনের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া, মানুষের সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য এবং কল্যাণ ও অকল্যাণের ভিত্তি আসলে কোন কোন জিনিসের ওপর রাখা হয়েছে, তা হৃদয়াঙ্গম করা। ফেরেস্তাদের কর্মকান্ড দেখে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য কেমন হওয়া উচিত তা বোঝা। আল্লাহর বিশাল রাজ্যের সুশৃঙ্খলতা সম্পর্কে সাম্যক অবগত হওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করতে পারলেও তিনি যে একটি সুশৃঙ্খল পন্থায় তার সম্রাজ্য পরিচালনা করেন তা মিরাজের ঘটনার মাধ্যমেই বিশ্ববাসির কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। এ থেকে শিক্ষনীয়, দুনিয়াবি জীবনে প্রবৃত্তির ইচ্ছানুযায়ি কাজ করা, উশৃঙ্খল জীবন যাপন করা আল্লাহর ফিতরাতের পরিপন্থি।

নবুওয়াতি পরিবারের সাথে সাক্ষাত্, রুহানী নেতৃত্ব এক উম্মত থেকে অন্য উম্মতের কাছে স্থানান্তর করার ধারাবাহিকতায় যুলুম, অত্যাচার এবং বিশ্বাসঘাতকতায় কলঙ্কিত ইতিহাসের অধিকারী ইহুদ জাতীর কাছ থেকে নেতৃত্ব কেড়ে নিয়ে জগতের কল্যাণের ঝর্ণাধারায় উতসারিত মুসলমান জাতীর নেতৃত্ব দানকারী মহনবী (স:) কে প্রদাণ করাও মিরাজের তাৎপর্য বা গুরুত্বের মধ্যে অন্যতম। তাছাড়া এ রাতে তিনি বায়তুল মোকাদ্দাসে নামাজে সকল নবীর ইমাম হয়ে সাইয়িদুল মুরসালিনের আসনে স্থায়ীভাবে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। ফলে এ রাতটি নিঃসন্দেহে তার শ্রেষ্ঠত্বের গৌরবোজ্জ্বল নিদর্শনও বহন করে।

রিসালাতের বিশেষ মর্যাদার সনদ প্রাপ্তির জন্য পবিত্র মিরাজ ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে মহানবী (সাঃ) প্রতি বিশেষ রহমতস্বরুপ। কেননা এমন এক দুঃসময়ে আল্লাহ মহানবী (সাঃ) কে দিদার লাভের সুযোগ দিয়েছিলেন, যখন বিভিন্ন দিক থেকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জীবনের সবচেয়ে দুর্যোগময় পরিস্থিতির মোকাবেলা করছিলেন। একমাত্র অভিভাবক চাচা আবু তালিব ও প্রিয়তম সহধর্মিনী হজরত খাদিজা (রাঃ) এর মৃত্যু, তায়েফের হৃদয়বিদারক ঘটনা, মক্কার কাফেরদের অমানবিক আচরন ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন কারণে এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মানসিকভাবে মর্মাহত হয়ে পড়েছিলেন। ঐ দুঃসময়ে আল্লাহ তায়ালার একান্ত সান্নিধ্য প্রপ্তির ফলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)  এর  সকল দুঃখ, বেদনা ও ক্লান্তির অবসান ঘটেছিল। মিরাজের মাধ্যমে তাঁকে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল যে, শুভদিন তথা ইসলামের বিজয় অতি সন্নিকটে, যার জন্য তিনি নিরন্তর সংগ্রাম করছেন। আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বন্ধু রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে পরম পুর্ণতালাভের জন্য, বিশ্ব মানবতার মুক্তির জন্যে, ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সার্বজনীন জীবন ব্যবস্থা হিসেবে রূপ দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনাও প্রদান করেছিলেন এ রজনীতে। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের সুখ-শান্তি, জাহান্নামের আজাব, লওহে কলম, আরশ-কুরসি ও অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত্যের সবকিছু প্রত্যাক্ষ করান এবং অনন্ত রহস্যের ভান্ডার তাঁর সামনে উন্মুক্ত করে দেন। অর্থাৎ মিরাজের মাধ্যমে মহানবী (সাঃ) কে প্রয়োগিক ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা দান করা হয়, যাতে মানুষ আল্লাহর নিদর্শন উপলব্ধি করতে পারে এবং স্বচ্ছ ধারণা অর্জন করতে পারে।
এ জন্য এ রাতটি মুসলমান জাতীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

হিজরতের কিছুকাল পূর্বে মিরাজের এই সুমহান ঘটনাটি ঘটে নবী জীবনে। ভাবী মদীনা রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হবেন যিনি, নবজাগ্রত মুসলিম জাতির নেতৃত্ব দিবেন যিনি, তাঁকে তার উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্যই মহান শ্রষ্ঠা তার অসীম ক্ষমতায় পরিপূর্ণ একটি দৈহিক সফর এবং চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণের জন্য কাছে টেনে নিয়েছিলেন। একটি সৃজিত জাতির ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণের যাবতীয় কার্যক্রমসহ মহান আল্লাহ পাকের আনুগত্য ও গোলামী করার বাস্তব ট্রেনিংই ছিল এ মহা মিলণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বিশেষভাবে আত্মসংশোধন ও আতসংযমের ব্যবস্থাপত্র হিসাবে ইসলামের মৌলিক অনুষ্ঠানাদি নামাজ, রোজা প্রভৃতি অবশ্য পালনীয় বিষয় সমূহ মহানবী (স:) কে এই মিরাজ রজনীতে অবহিত করা হয়। আর মহানবী (স:) নামাযকে মুমিনের মিরাজ হিসাবে ঘোষণা দিয়ে উম্মতগণকেও সম্মানিত ও সৌভাগ্যশালী করেছেন। মোটকথা বাস্তব অবস্থা স্বচক্ষে দেখে তিনি উম্মতদেরকে হেদায়েতের পথ দেখিয়েছেন। তাই মিরাজের তাৎপর্যপূর্ণ  ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা গ্রহন করে সঠিকভাবে ইসলামের পথে চলাই হোক মিরাজ রজনীর অঙ্গীকার। আমীন।

-
লেখক: কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
kbasher74@gmail.com


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Allah, Sky, Universe, Prophet, Islam, Muslim, Religious, Shab-e-Meraj