সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

join-bangladesh-police-dream.jpg

স্বপ্ন দেখি যদি পুলিশ অফিসার হতাম

বাংলাদেশে একজন পুলিশ অফিসারের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং উপায়গুলো কেমন? বাংলাদেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক-আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে একজন পুলিশ অফিসারের ভূমিকা কিরূপ হতে পারে অথবা কীভাবে সে তার লালায়িত ইতিবাচক স্বপ্নগুলোকে নাগরিক কল্যাণে নির্বাহ করতে পারে...

হয়তো কিছুই করা হত না। আবার সকল প্রকার রাষ্ট্রীয় শক্তির দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশে নিজেকে আবির্ভূত করানোর চেষ্টায় কিছু সুচিন্তিত কর্মকাণ্ডে হয়তো নিজেকে জড়িয়ে নিতাম।

পুলিশ একটি দেশের জাতীয় ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার প্রতীক। পুলিশি ব্যবস্থার উপর বিশ্বাস করে একটি জাতি তার আস্থা, মান-সম্মান, স্বাধীনতা-স্বকীয়তার প্রায় সবটুকুই পুলিশের উপর ছেড়ে দিতে চায়। এরূপ জাতীয় দায়িত্বের সাথে নিজের ইতিবাচক চিন্তার মিলন ঘটিয়ে কিছু করার তাড়নায় সবসময় একজন পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখি।

স্বপ্ন দেখি, পুলিশ অফিসার হয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত আয়ত্তের মধ্য নিজের ইতিবাচক চিন্তাগুলোর সমন্বয় ঘটাতে। যদি পুলিশ অফিসার হতে পারতাম, তবে বিদ্যমান উপনিবেশবাদী ব্রিটিশ পুলিশ আইন পরিবর্তনে সহায়ক হয়ে একটি আধুনিক, জনবান্ধব, পুলিশ বাহিনী গড়ার চেষ্টায় উপনীত হতাম। বাংলাদেশে বিরাজমান পুলিশি ব্যবস্থার সমস্যা ও সমাধানগুলোকে চিহ্নিতকরণ আর সম্ভাবনাসমূহকে বিশ্লেষণ করে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নাগরিক কল্যাণে পুলিশিং সেবা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে যেতাম।  

যেকোনো দায়িত্বে নিজেকে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করার চিন্তাকে আমি লালন করি। যদি কোন থানার ওসি হতাম, তবে শুরুতেই এলাকায় বসবাসকারী সকল গণ্যমান্য ব্যক্তি যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, রাজনৈতিক দলের নেতা, মসজিদের ইমাম, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধির কাছে চিঠি লিখতাম। নিজের অবস্থান বর্ণনা করে থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে সবার মানসিক ও অবস্থানগত সহযোগিতা কামনা করতাম।

নিজেকে বিভিন্নভাবে জনসম্পৃক্ত করার চেষ্টা চালাতাম। হাটে-বাজারে, রাস্তার মোড়ে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব জায়গায় ব্যক্তি উদ্যোগে জনসংযোগ বাড়াতাম। অবৈধ মাদক দ্রব্য, বখাটেপনা, জুয়াসহ অন্যান্য অনৈতিক কাজসমূহের সামাজিকভাবে প্রতিরোধের চেষ্টায় উপনীত হতাম।

থানায় ফৌজদারি মামলার জট রোধ ও আইনি বিচার জটিলতা থেকে জনগণকে মুক্তি দেয়ার প্রত্যাশায় থানায় মামলা রুজু না করেই সহজভাবে বিরোধ মীমাংসায় আবির্ভূত হতাম।

নিজের কর্মকাণ্ডে এলাকার টাউট রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন ধাউড় মাতব্বরদের ঈর্ষার কারণ হতে পারি। এক্ষেত্রে নিজের অবস্থান দৃঢ় করার জন্য নিজেকে আরও বেশী জনসাধারণের কাতারে নিয়ে যাব।

জনস্বার্থের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে আইনে অসমর্থিত কোন কাজ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ‘করাপশন ফর নোবেল কজ’ অর্থাৎ সৎ উদ্দেশ্য অসৎ কাজ ধারণায় বিষটিকে রূপান্তর করতাম। কমিউনিটি পুলিশিং দর্শনে নিজেকে এগিয়ে নিতাম। সনাতনী পুলিশ আইন, যেখানে শুধু  আইনকে রক্ষা করার দিকে নজর দিলে ভাল কাজ নাও হতে পারে।

তদুপরি উপনিবেশবাদি ১৮৬১ সালের যে পুলিশ আইন দেশের পুলিশি ব্যবস্থায় প্রচলিত, তা শুধু পুলিশকে স্বেচ্ছাচারী ও দুর্নীতিপরায়ণ হতে বাধ্য করে। কিন্তু কমিউনিটি পুলিশিং বলে- আইন মেনে কাজ কর, জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ কর। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণ নিজেরাই যাতে নিজ নিজ এলাকার অপরাধগুলো প্রতিরোধ করতে পারে তার জন্য জনগণকে আইনী পরামর্শ দেওয়া, অপরাধ সম্পর্কে সচেতন করা, অপরাধকর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য বা পরামর্শ দেওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়ন করার চেষ্টা করা হত।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিশুদের অপরাধ প্রতিরোধ ও অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নিয়মিত বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শনের চেষ্টা থাকত। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মাদক বিরোধী চেতনা তৈরি করতাম। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ মাদকের বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় শপথ নেয়ার ব্যবস্থা রাখতাম।

টিআইবির এক সমীক্ষা মতে বাংলাদেশের শুধুমাত্র ২৬ ভাগ লোক পুলিশি সহায়তা নিয়ে থাকে। বিরাজমান স্বেচ্ছাচারী ও রাজনীতি কলুষিত পুলিশি আইন হয়তো জনগণকে পুলিশ বিমুখ হতে বাধ্য করে। এ অবস্থা রোধে ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে বিভিন্ন সমস্যা-পর্যালোচনা-উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় কর্মশালার আয়োজন করতাম। সভায় নাগরিকের পুলিশি সহায়তা পাওয়ার অধিকার, পুলিশি সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মত বিষয়গুলোকে হয়তো সহজেই জনগণের সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব হত। সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সুচিন্তিত জনমত তৈরি করে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করার জনচাপ হয়তো এখান থেকে শুরু হতে পারত।

আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিগত ধারণাকে ব্যবহার করে একটি দ্বিমুখী ও দ্রুততর যোগাযোগ তৈরির প্রচেষ্টায় ফেসবুকে একটি এলাকাভিত্তিক কমিউনিটি গ্রুপ খুলতাম। যেখানে জনগণের ইচ্ছা-চাহিদা, অপরাধ-বিশৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিবরণের পাশাপাশি পুলিশের সাফল্যর ঘটনাগুলির বিবরণ থাকবে।

আবার এর বাস্তব রুপায়নে তরুণ-তরুণীদের নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান, বিলবোর্ড স্থাপন, মাইকিং, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন কিংবা তরুণ সম্প্রদায়ের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে এসএমএস প্রদান সাথে তা অন্যকে ফরোয়ার্ড করার আহবান জানাতাম। স্থানীয়ভাবে ছোট ছোট ডকুমেন্টারি তৈরি করে জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে তা প্রচারের ব্যবস্থা করতাম।

জনমুখী পুলিশিং জোরদারের লক্ষ্য আমি মাধ্যমিক স্কুল এবং উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রছাত্রীদের সময়-সুযোগে নির্দিষ্ট সংখ্যায় থানা পরিদর্শনের সুযোগ করে দিতাম। পুলিশের সাজ-সরঞ্জামসমুহ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতাম। আগ্রহ ধরে রাখার উদ্দেশ্য পরবর্তীতে তাদের মধ্য পুলিশিং-জনসেবা-উন্নয়নের উপর বিতর্ক অনুষ্ঠান আয়োজন করতাম। পাশাপাশি পুলিশ কুইজ, অপরাধ বিরোধী কবিতা ও রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজন করার চিন্তাও বিবেচনায় থাকত।

ট্রাফিক পুলিশিং সম্পর্কে ধারণা দানের লক্ষ্য ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় প্রশিক্ষণার্থীদের নিকটবর্তী একটি স্থানে যানবাহন চেকিং ও প্রসিকিউশনের ধারণা দেয়ার চেষ্টা করতাম। প্রশিক্ষণার্থীরা নিজেরা গাড়ি চেকিংয়ে অংশ নিবে। গাড়ি চালকের কাছে সঞ্চিত বাধ্যতামূলক রেকর্ডসমূহ তদারকের পাশাপাশি তাদের সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টের ত্রুটিসমূহ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেয়ার চেষ্টা করে যেতাম। যানজট সর্বস্ব এই দেশে যা হয়তো পরবর্তীতে যানজট নিরসনে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

যেকোনো মামলার বাদীকে ন্যায় বিচার কিংবা নিরীহকে হয়রানি না করার প্রচেষ্টায় আমার চেষ্টা থাকত বাদী, বিবাদী উভয়ের সাথে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে কথা বলা, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন অফিসার কিংবা সাব ইন্সপেক্টরকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা।

মূলত ১৮২৯ সালে রবার্ট পীল কর্তৃক প্রণীত লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ আইন বা গণমুখী পুলিশ আইনের আদলে একটি কমিউনিটি পুলিশিং সমাজ তৈরির লক্ষ্য একজন অফিসার ইনচার্জ হিসেবে উপরোক্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করার ইচ্ছাই হত একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে আমার স্বপ্ন। যেখানে সাধারণ মানুষের মধ্য আইনের শাসন প্রতিষ্টা করা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রচেষ্টাই হত আমার কর্মপরিধি।

সিভিল সার্ভিসের মাধ্যমে একজন সহকারী পুলিশ সুপার হওয়ার স্বপ্নকেও আমি লালন করে যাই। যেখানে আমি আমার  সার্কেলের অন্তর্গত থানার অফিসার ইনচার্জদের সাথে ব্যক্তিগত ও আইনি যোগাযোগ বৃদ্ধি করে ওসি হিসেবে পূর্বে প্রদত্ত আমার দায়িত্বগুলি বাস্তবায়নে তাদের উপর প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট হতাম। বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম, উৎসব, পূজা-পার্বণে পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্ব-উপস্থিতির মাধ্যমে জন-বান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতাম।

অফিসার হিসেবে সময় ও সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের লক্ষ্য সাধারণ সব মামলার পাশাপাশি বিশেষ মামলা তদারকিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক আশেপাশের রুজুকৃত অন্যান্য মামলারও খোজ-খবর নিতাম। সাথে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামীর খোঁজ কিংবা সেখানে পুলিশ হানা দিয়েছে কিনা তা তদারক করতাম। বলতে পারি, কোন নির্দিষ্ট জায়গায় বা মফস্বলের সফরগুলোকে একটি সমন্বিত সফরে পরিণত করার চেষ্টা থাকত।

নেতৃত্বের ক্রমোন্নতিতে একজন জেলার পুলিশ সুপার হওয়ার প্রত্যাশা ও পোষণ করি আমি। এ পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের সাথে মাঠ পর্যায়ে মিলেমিশে কাজ করে ইতিবাচক মানসিকতা, মেধা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার প্রয়োগ ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে সুশীল সেবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার চেষ্টা করতাম।

জেলা পুলিশের অধীনস্থ থানা, গোয়েন্দা সংস্থা, বিশেষ শাখা, ফাড়ি, তদন্ত কেন্দ্র এবং সার্কেল অফিসের মধ্য আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধি করে অপরাধ ও অপরাধী সনাক্তকরণ, অপরাধের কারণ অনুসন্ধান, অপরাধ নিবারণ, আইনের শাসন প্রতিষ্টা, জননিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে সচেষ্ট হতাম। পাশাপাশি আইন, বিধি ও সরকার কর্তৃক জারীকৃত আদেশ, নির্দেশ, পালনের পাশাপাশি জনগণের যৌথ অংশীদারিত্বমূলক পুলিশিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতাম।

যদি বিভাগীয় পুলিশ প্রধান হতে পারতাম, তবে জেলা-পুলিশ প্রধানদের সাথে সাপ্তাহিক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জেলার নিরাপদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তুলনামূলক আলোচনা করতাম। পাশাপাশি আন্তঃজেলার নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা রক্ষার্থে নিরাপদ হাইওয়ে পুলিশিং এর উপর জোর দিতাম।

সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দূরীকরণে নিজ বিভাগীয় মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার, উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক, ডিজিএফআইয়ের বিভাগীয় অফিস প্রধান, র‍্যাব অধিনায়ক, কোস্ট গার্ডের জোনাল কমান্ডার, এনএসআই এর বিভাগীয় প্রধান, আনসার ও ভিডিপির  মহাপরিচালকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করতাম।

কর্তৃত্বের সর্বোচ্চতা অর্জন, নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতার বৈধ ব্যবহারের নিমিত্তে বাংলাদেশে পুলিশের একজন মহাপরিদর্শক(আইজিপি) হওয়ার স্বপ্ন সবসময় আমি লালন করি। যদি পুলিশের আইজিপি হতে পারতাম, তবে শুরুতেই পুলিশ এবং সাধারণ মানুষদের মধ্য ২০০ বছরের যে বিরাজমান দূরত্ব, তা নিরসনে নির্বাহী ও আইন বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নেতা-নেতৃবৃন্দের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে পুলিশ সংস্কার আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রচেষ্টা চালাতাম। কারণ ক্ষমতার মাত্রা সর্বোচ্চ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নির্দেশ করে।

শত মতবিরোধ থাকলেও ২০০৭ খসড়া পুলিশ সংস্কার আইন বাস্তবায়নে স্টাফ এজেন্সির(সরকারের নীতি নির্ধারণে সহায়তাকারী) ভূমিকায় অবতীর্ণ হতাম, যাতে বাংলাদেশের পুলিশি ব্যবস্থা সরকার যন্ত্র থেকে কিছুটা হলেও পৃথক হতে পারে, পাশাপাশি জনগণ তথা আইন পরিষদের নিকট পুলিশের জবাবদিহিতা যেন নিশ্চিত হয়।

পুলিশ ব্যবস্থায় নিজস্ব চিন্তা পদ্ধতি, উদ্ভাবনী ক্ষমতা, নেতৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে সাহায্য করতাম।

পুলিশের বিভিন্ন উইংয়ের অপর্যাপ্ততা, সীমাবদ্ধতা, অদক্ষতাকে বিশ্লেষণ করে একটি প্রশিক্ষিত ও নাগরিকবান্ধব পুলিশি প্রতিষ্ঠান গড়ার ক্ষেত্রে সচেষ্ট হতাম। জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশন ফেরত পুলিশ সদস্যদের গঠনমূলক কাজে জড়িত হওয়ার প্রতি উৎসাহ দিতাম।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়াবলী, কর্মবিভাগ, উন্নতি, পদাবনতি, ইত্যাদি অনেক কিছু সম্পর্কে ধারণা সবার পক্ষে রাখা সম্ভব হয়না। আবার পুলিশের বিভিন্ন বিভাগগুলোর মধ্য আন্তঃসম্পর্ক রক্ষা করাও অনেক সময় হয়না। এজন্য পুলিশ গবেষক ডেভিড বেইলী হয়তো বলেছেন, ‘পুলিশে ডান হাত তার বাম হাতকে চিনেনা’। এহেন অবস্থা রোধকল্পে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের গ্রহণযোগ্যতা ব্যক্তি পর্যায় থেকে সাংগঠনিক পর্যায়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করতাম।

বিভিন্ন দেশের উন্নত পুলিশ আইন যেমন ইংল্যান্ড, আমেরিকা, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, পার্শ্ববর্তী ভারতের কেরালা রাজ্যর পুলিশ আইনসমুহের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দেশীয় পুলিশে অসামঞ্জস্যতা দূরীকরণের পাশাপাশি তাদের সাথে পারস্পরিক মিতস্ক্রিয়ায় দেশের পুলিশদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতাম।

সুযোগ যেখানে অফুরন্ত, পেশাগত দক্ষতা সেখানে বিস্তৃত। মাঠ পর্যায়ের পুলিশ থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার সবারই যথাযোগ্য কর্মদক্ষতার প্রতিদানে উপযুক্ত স্বীকৃতির ব্যবস্থা নিতাম।

মৌলিক অধিকার বঞ্চনা থেকে পেশাগত অসন্তুষ্টির সৃষ্টি হয়। থানায় আসামীকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা, রক্ষণাবেক্ষণ, আদালতে চালানসহ বিভিন্ন খরচের একটি অংশ অনেকসময় থানার পুলিশ অফিসারদের বহন করতে হয়। অনিচ্ছা সত্তেও হয়তো অনেকে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারীতায় জড়িত হয়। কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে সকল পুলিশ ব্যবস্থার সম্মান যাতে রক্ষা হয় এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা তাদের নৈতিক মনোবলকে যেন ধরে রাখতে পারে সে চেষ্টায় নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করতাম।

আমি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। আমার ইতিবাচক স্বপ্ন আমাকে তা বাস্তবায়নের তাড়ায় বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে। স্বকীয়তা ও চ্যালেঞ্জিংপূর্ণ হওয়ায় পুলিশিং পেশা সবার মধ্য গ্রহণযোগ্যতার আবহ সৃষ্টি করে। সাথে সাথে দুর্বল ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়ে পুলিশের মূল্যবোধের অবক্ষয় হওয়ার ঘটানাগুলিও জনসাধারণকে ব্যথিত করে।

জানি, পুলিশ অফিসার হয়ে আমার স্বপ্ন আর চিন্তাগুলো বাস্তবায়নে বহু বাধার সম্মুখীন হতে হবে। তবুও চলার পথের অন্তরায়সমুহকে ভবিষ্যৎ নির্মাণের অমূল্য পাথেয় হিসেবে বিবেচনা করার চেষ্টা করি।

আমি একজন পুলিশ অফিসার হলে উপরিউক্ত কার্যবিবরণীগুলো স্মরণ করে সম্পূর্ণ পেশাদারী মনোভাব নিয়ে পর্যবেক্ষণধর্মী, বিধিনিষ্ট, নিরপেক্ষ ও নাগরিকবান্ধব পুলিশিং সেবা দেয়ার চেষ্টায় অবতীর্ণ হতাম।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

bangladesh, police, join, Dream, Good, Positive, patriotism, profession, job, career