সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

cow-for-qurbani.jpg

কোরবানি নিয়ে কিছু কথা

ঈদ মানে আনন্দ। আর ঈদুল আজহায় প্রত্যেক সাবালক মুসলমান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কোরবানি দেয়। সেই কোরবানির গোস্ত তিন ভাগে ভাগ করে নেয়। এক ভাগ গরিবদের মধ্যে বিতরণ করে ঈদের আনন্দ আরো বাড়িয়ে তোলে।

আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জন ও ইবাদতের জন্য পশু জবাই করার নাম হলো কোরবানি। অর্থাৎ ঈদুল আজহার দিনগুলোতে নির্দিষ্ট প্রকারের গৃহপালিত পশু আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য জবাই করাই হচ্ছে কোরবানি।

কোরবানির দিনে প্রত্যেক সজ্ঞান, সামর্থ্যবান, সাবালক  মুসলমানের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। এটি কোরআন, হাদিস ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্যমত দ্বারা প্রমাণিত এবং ইসলামী শরিয়তে ইবাদত হিসেবে সিদ্ধ। কোরআন শরিফে যেমন এসেছে: তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর ও পশু কোরবানি কর।

এবং প্রিয় নবী (সা.) এরশাদ করেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা কোরবানি করে না, তারা যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩১২৩)

কোরবানি
কোরবানি আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো অতিশয় নিকটবর্তী হওয়া। নির্দিষ্ট প্রাণীকে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের আশায় নির্দিষ্ট সময়ে জবাই করাকে ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় কোরবানি বলা হয়।

কোরবানির পশু
কোরআনের ভাষায় যাদের বাহিমাতুল আনআম বলা হয় সেসব প্রানীকে কোরবানি দেওয়া যাবে। এদের মধ্যে - উট, গরু, বকরি, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ছাড়া অন্য কোনো পশু না।

কোরবানির পশুর বয়স শরিয়তের দৃষ্টিতে এমন হতে হবে যেনো - উট পাঁচ বছরের, গরু বা মহিষ দুই বছরের এবং ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এক বছর বা তার বেশি হয়।

হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, প্রিয় নবী (সা.) আমাদের নির্দেশ করেছেন যে, আমরা কোরবানির পশুর চোখ ও কান ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেই এবং এমন পশু কোরবানি না করি যার কানে ছিদ্র আছে (তিরমিযী শরীফ)।

কোরবানি পশু নির্বাচন
রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, কোরবানির পশুতে যে চারটি দোষ সহনীয় নয় তা হলো:

  • স্পষ্ট কানা
  • স্পষ্ট অসুস্থ
  • হাড্ডিসার ও
  • ল্যাংড়া পশু।

জবাই করার সময়
ঈদুল আজহার সালাত আদায়ের পর থেকেই কোরবানির সময় শুরু হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে সালাতের পূর্বে জবাই করল, সে নিজের জন্য জবাই করল। আর যে খুৎবা ও ঈদের সালাতের পর কোরবানি করল, সে তার কোরবানি ও সুন্নত পূর্ণ করল। (বুখারী ও মুসলিম)

যে সুন্দর করে জবাই করার ক্ষমতা রাখে, তার উচিত নিজ হাতে কোরবানি করা। কোরবানির সময় কোরবানিকারী নিজের নাম অথবা যার পক্ষ থেকে কোরবানি করা হচ্ছে তার নাম বলবে।

যেমন প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন: বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার, হে আল্লাহ, এটা আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের মধ্যে যারা কোরবানি করেনি, তাদের পক্ষ থেকে। (আবুদাউদ ও তিরমিযী)

কোরবানির গোস্ত বিতরণ
যে ব্যক্তি কোরবানি দেয়, তার জন্য সুন্নত হলো কোরবানির গোস্ত নিজে খাওয়া, আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের দেওয়া এবং গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা। 

আল্লাহ তায়ালা বলেন: অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুঃস্থ-দরিদ্রকে দাও। (হজ : ২৮)

তিনি আরো বলেন, যে অভাবী, মানুষের কাছে হাত পাতে না এবং যে অভাবী চেয়ে বেড়ায়-তাদের খেতে দাও। (হজ : ৩৬)

ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, কোরবানির গোস্ত তিন ভাগে ভাগ করতে হবে। এক ভাগ নিজের জন্য, এক ভাগ দরিদ্রদের দান করার জন্য আর বাকি এক ভাগ উপহার হিসেবে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের দেওয়া। পারিশ্রমিক হিসেবে এখান থেকে কসাই বা মজদুরদের কোনো অংশ দেওয়া যাবে না।

আমরা সবাই নিয়ম মেনে কোরবানি দেব। আল্লাহ্, আমাদের কোরবানি কবুল করুন (আমিন)।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

দায়িত্ব, অধিকার, আত্মীয়, গরিব, বন্টন, আনন্দ, ঈদ, ধর্ম, জবাই, পশু, কোরবানী